অর্জুন অর্থ উজ্জ্বল। শুধু নামেই নয় কর্মেও উজ্জ্বল অর্জুন দাস। ছাত্রাবস্থা থেকেই ফ্রিল্যান্সিং করে এখন তিনি স্বাবলম্বী। মাসে আয় করেন ৫০ হাজার টাকা।

শুধু নিজেই স্বাবলম্বী হননি; অনেক বেকার তরুণ-তরুণীর অনুপ্রেরণার নামও তিনি। প্রশিক্ষণার্থীদের অনলাইনে বুক কভার ডিজাইন, কালার বুক, লাইন আর্ট, হেয়ার মাস্কিং, টেক্সট মাস্কিংসহ গ্রাফিক্স ডিজাইনের নানা বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেন অর্জুন। ৪টি ব্যাচে দেশের বিভিন্ন জেলার আড়াইশ প্রশিক্ষণার্থী প্রশিক্ষণ নেন। কোর্স চলার সময় থেকে আয় করা শুরু করেন তারা। বর্তমানে ১ হাজার ২০০ ডলার পর্যন্ত আয় করছেন প্রশিক্ষণার্থীরা।
শেখ কামাল ইনকিউবেশন সেন্টারের প্রশিক্ষক হিসেবে কাজ করার সুযোগ পেয়েছেন তিনি। গত ১৪ ফেব্রুয়ারি থেকে ৬ মাসের গ্রাফিক্স ডিজাইন ও ফ্রিল্যান্সিং কোর্সে প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন।

রংপুর নগরীর মুলাটোল পুকুরপাড়ের বাসিন্দা অর্জুন ছোট্টবেলায় মাকে হারান। তার বাবা কমল কুমার দাস অসুস্থ হয়ে শয্যাশায়ী হয়ে পড়েন। ভবিষ্যতের কথা ভেবে ছেলেকে অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র এএসপি বড় ভাই অমূল্য চন্দ্র দাসের হাতে তুলে দেন। সেখান থেকেই লেখাপড়া করেন অর্জুন। রংপুর পুলিশ লাইন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এসএসসি ও এইচএসসি এবং ২০২১ সালে কারমাইকেল কলেজের সমাজবিজ্ঞান বিভাগ থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেন।
বিদ্যালয়ে পড়ার সময় বড় ভাইদের দেখে ফ্রিল্যান্সিং শেখার আগ্রহ তৈরি হয় তার। তবে পড়ার চাপে স্কুলজীবনে তা করা হয়নি। অনার্সে পড়ার সময় ২০১৯ সালের শেষের দিকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে গ্রাফিক্স ডিজাইন, ডিজিটাল মার্কেটিং ও বেসিক কম্পিউটিং বিষয়ে দুই সপ্তাহের প্রশিক্ষণ নেন তিনি। ওই বছরই অনলাইনে এলইডিপির ৪০ দিনের গ্রাফিক্স ডিজাইন প্রশিক্ষণ নেন। এ কাজে তার বৌদি রমা দাস সহযোগিতা করেন।

অর্জুন দাস বলেন, করোনায় ২০২০ সালের এপ্রিল থেকে দেশে কঠোর লকডাউন শুরু হয়। এতে মানুষ ঘরবন্দি হলে সব ক্ষেত্রে স্থবিরতা নেমে আসে। চাকরি হারান উত্তরাঞ্চলের দেড় লক্ষাধিক মানুষ। তাই চাকরি নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয় তার। অসুস্থ বাবার একমাত্র সন্তান হওয়ায় কাজের প্রয়োজন হয়ে পড়ে। সেই তাগিদ থেকেই ফ্রিল্যান্সার হওয়া।

তিনি বলেন, 'কোর্স শুরুর দেড় মাসের মধ্যেই ৫০০ ডলার আয় করে ফাইভার মার্কেট প্লেসে লেভেল ওয়ান সেলার হই আমি। এরপর করোনা শুরু হলে ঘরবন্দি হয়ে পড়েন মানুষ। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে দিনরাত অনলাইনে কাজ করতে থাকি। দুই মাস পর ২ হাজারের বেশি ডলার আয় করে লেভেল টু সেলার হই আমি। বর্তমানে আমার ৪টি লেভেল টু সেলার আইডি আছে। এখন প্রতি মাসে আমার আয় ৫০ হাজার টাকা। গ্রামের বাড়িতে ফ্রিল্যান্সিংয়ের আয় দিয়ে আমি ভবন নির্মাণ করেছি। সেখানে আইটি ফার্ম খুলব এবং বেকারদের বিনামূল্যে প্রশিক্ষণ দেব।'

শর্মিলা আক্তার নামে এক প্রশিক্ষণার্থী বলেন, 'করোনাকালে ফেসবুকে অর্জুন ভাইয়ার পোস্ট দেখে আমি আগ্রহী হই এবং প্রশিক্ষণ নিই। এখন লেখাপড়ার পাশাপাশি ফ্রিল্যান্সিং করে প্রতি মাসে ১৫ হাজার টাকা আয় হচ্ছে আমার।'

রংপুর সরকারি বেগম রোকেয়া কলেজের সহযোগী অধ্যাপক আজহারুল ইসলাম দুলাল বলেন, অর্জুনের মতো তরুণরা বেকার যুবক-যুবতীদের প্রশিক্ষণ দিয়ে স্বাবলম্বী করে তুলেছে; যা প্রশংসনীয়।