বাংলাদেশের হাজার হাজার কোটি টাকা আওয়ামী লীগ সরকার লুটপাট করেছে তা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্যের মাধ্যমেই প্রমাণ হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী। শনিবার রাজশাহী নগরীর ভুবনমোহন পার্কে মহানগর বিএনপি আয়োজিত ‘আওয়ামী সন্ত্রাস ও নৈরাজ্য’র প্রতিবাদে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব বলেন।

রিজভী বলেন, ‘ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনে ওবায়দুল কাদের দলীয় নেতাকর্মীদের বলেছেন, তোমরা কোটি কোটি টাকা অর্জন করো, পাচার করো এইটা আর চলবে না। তার এই বক্তব্যে আজকে প্রমাণিত হয়েছে বিরোধী দল, নাগরিক সমাজ, জনগণ সবাই যে সম্পদ লুটপাটের কথা বলে আসছিল সবগুলোই সঠিক। সেটা পদ্মাসেতু থেকে হোক আর হলমার্ক থেকে হোক, ফ্লাইওভার, মেট্রোরেল যেখান থেকেই হোক লুটপাট হয়েছে সেটি ওবায়দুল কাদেরই স্বীকার করলেন। আওয়ামী লীগ সরকার থেকে থেকে আড়াই লাখ কোটি টাকা পাচার করেছে।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী কয়দিন আগে কাঁদো কাঁদো গলায় বলেছেন, আমাদের কি অপরাধ? আমাদের নাকি ক্ষমতায় রাখতে চায় না। আপনার কোনো অপরাধ নেই? কী অপরাধ আপনি জানেন না? ইলিয়াস আলী কোথায়? তাকে কী আকাশ থেকে জিনেরা তুলে নিয়ে গেছে? আরেক এমপি সাইফুল ইসলাম, চৌধুরী আলম, জাকির এরা কোথায়? তাদেরকে কে তুলে নিয়ে গেছে? আপনি আয়নার দিকে তাকিয়ে দেখুন, আপনার কী অপরাধ। আপনি জোর করে, জনগণকে বন্দুকের মুখে রেখে নির্বাচন করেন। কখনও ভোটারবিহীন, কখনও নিশিরাতের নির্বাচন করেন আপনি। এগুলোকে কী আপনার অপরাধ মনে করেন না? আর কী করলে উপলব্ধি হবে আপনি অপরাধ করেছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ওবায়দুল কাদের বাংলাদেশের মানুষদের মনে করেছে এরা বোকা, এরা বেকুব এরা কিছুই বোঝে না। ওনারা যা বলবে মানুষ তাই বিশ্বাস করবে। ওইদিন আর নেই। কয়দিন আগে আওয়ামী লীগের সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী আবু সাঈদ সংবাদ সম্মেলন করেছেন তার দলেরই আরেক সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকুর বিরুদ্ধে। শামসুলের ভাই মেয়র ও তার দুষ্কৃতিকর্ম, সন্ত্রাস ও জনগণের ওপর অত্যাচারের বিরুদ্ধে। বিএনপিকে আর প্রতিবাদ করতে হচ্ছে না, এখন নিজেরাই নিজেদের দলের লোকের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করছে।’

ঈদের সময়ও বিএনপি নেতাদের ওপর হামলা করা হয়েছে অভিযোগ করে রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘আওয়ামী লীগের দুঃশাসনে বিএনপি, ছাত্রদল, যুবদলসহ আমাদের অন্যান্য অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী দেশের জনগণ কেউ ভালো নেই। ঈদেও আমাদের নেতাকর্মীদের শান্তি দেয়নি আওয়ামী লীগ দুষ্কৃতিকারীরা। ঈদেও আমাদের নেতাকর্মীদের ওপরে হামলা চালিয়েছে। তারা ক্ষমতায় থাকার জন্য সুষ্ঠু নির্বাচনের তোয়াক্কা করছেন না, গায়ের জোরে ক্ষমতায় থাকার সব চেষ্টা করছেন। সময় থাকতে এখনি প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করুন। যদি ২০১৪ সালের মতো প্রতিদ্বন্দ্বীতা বিহীন নির্বাচন করেন কিংবা ২০১৮ সালের মতো নিশিরাতের নির্বাচন করেন তাহলে আপনার রেহাই নেই। এমন নির্বাচন করলে আপনার ময়ূরের সিংহাসন আর টিকবে না।’

সমাবেশে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু সাঈদ চাঁন বলেন, ‘গত নির্বাচনে বাঘায় একটি ভোটও পড়েনি। যদি আবার তামাশার নির্বাচন করা হয় তাহলে এবারও একটি ভোট পড়তে দেব না। বাংলাদেশ শ্রীলঙ্কার মতো বানিয়ে ছাড়ছেন। শ্রীলঙ্কার মন্ত্রীরা কাপড় নিয়ে পালাতে পারেনি। আপনারাও পারবেন না।’

সমাবেশে বিশেষ বক্তব্য দেন, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক আশরাফ উদ্দিন উজ্জল। এসময় সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা কবির হোসেন।

মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এরশাদ আলী ঈশার সভাপতিত্বে এতে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন, মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব মামুনুর রশীদ, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু সাঈদ চাঁন, সদস্য সচিব বিশ্বনাথ সরকার প্রমুখ।