বরগুনার পাথরঘাটায় ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সভাপতির হাত-পায়ের রগ কেটে দিয়েছে প্রতিপক্ষ। শুক্রবার রাত ১০টার দিকে পাথরঘাটা উপজেলা আওয়ামী লীগ অফিসের সামনে একটি চায়ের দোকানে এ ঘটনা ঘটে। জনি পঞ্চাইতের নামে ওই নেতাকে পরে বন্ধুরা উদ্ধার করে পাথরঘাটা সৌদি প্রবাসী হাসপাতালে নেন। সেখানে চিকিৎসার পর শনিবার দুপুরে তার জ্ঞান ফিরেছে।

পাথরঘাটা উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি অয়ালিদ মক্কি জানান, শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে জনি ও তার ৪-৫ বন্ধু আওয়ামী লীগ অফিসের সামনে চায়ের দোকানে বসে ছিলেন। এমন সময় স্থানীয় আউয়াল মাস্টারের ছেলে সুজন ও ইসমাইল সরদারের ছেলে আবু বক্করের নেতৃত্বে ১০-১২ জনের একটি দল চাপাতি ও চায়নিজ কুড়াল নিয়ে তার ওপর হামলা চালায়। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে জনির ডান হাত ও পায়ের রগ কাটা পড়েছে। শরীরের বিভিন্ন স্থানেও কোপ দেওয়া হয়েছে।

পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজের সার্জারি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও সৌদি প্রবাসী হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. দিপক চন্দ্র কীর্তনিয়া জানান, জনির হাত-পায়ের একাধিক স্থানে ধারালো অস্ত্রের কোপে রগ কাটা পড়েছে। প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ৩ ঘণ্টা সময় নিয়ে অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। কিছুটা সুস্থ হলে তাকে ঢাকায় নিয়ে চিকিৎসার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এদিকে ওই ঘটনার পর আহত জনির স্বজনরা পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডে একটি বাড়িতে হামলা চালায়। জনির ওপর হামলায় ছেলে জড়িত অভিযোগ এনে বাড়ির কর্তা নাসির উদ্দিন প্রিন্সকে মারধর করে তারা। পরে প্রিন্সকে নিয়ে যায় তারা। এক ঘণ্টা পর তাকে পুলিশ উদ্ধার করে। তাকে বরিশাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

পাথরঘাটা থানার ওসি মো. আবুল বাসার জানান, এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে থানায় মামলা হয়নি। তবে অপরাধীদের গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে। যারা ছাত্রলীগ নেতার ওপর হামলা করেছে তাদের কয়েকজনের বিরুদ্ধে মাদকসহ হত্যা মামলা রয়েছে বলে জানান তিনি।

এদিকে ওই ঘটনার রাতে পাথরঘাটা উপজেলা আওয়ামী লীগ অফিসের দরজার তালা ভেঙে অফিসের আলমারি থেকে টাকা, জরুরি কাগজপত্র, সৌর প্যানেলের ব্যাটারিসহ মালপত্র নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় পাথরঘাটা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। জনির ওপর হামলার সঙ্গে অফিসে চুরির বিষয়টি যুক্ত কিনা, তা পুলিশকে তদন্ত করার অনুরোধ জানিয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাবির হোসেন। তিনি বলেন, যারা মারামারি করেছে তারা সবাই মাদকসেবী। এরা আওয়ামী লীগের অঙ্গ সংগঠনের কেউ না। এদের দায়িত্ব কখনোই আওয়ামী লীগ নেবে না।