অধ্যাপক আনিসুজ্জামান ছিলেন একজন জ্ঞানতাপস। তিনি ছিলেন জাতির শিক্ষক। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত অসাম্প্রদায়িক জাতি গঠনে কাজ করেছেন তিনি। তার জীবনালেখ্য আলোচনার মাধ্যমে বাংলাদেশের ইতিহাস জানা যায়। তিনি আমাদের বোধ, মর্ম ও স্মরণে সব সময় থাকবেন।

শনিবার রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকীতে স্মরণসভা ও আলোকচিত্র গ্রন্থের প্রকাশনা অনুষ্ঠানে বক্তারা এ কথা বলেন। এ সময় কবি মারুফুল ইসলাম সম্পাদিত আলোকচিত্র গ্রন্থ ‘আমার মুক্তি আলোয় আলোয়’-এর মোড়ক উন্মোচন করা হয়।

অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন, বাংলা একাডেমির সভাপতি কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মুহাম্মদ সামাদ, কবি ও সম্পাদক মারুফুল ইসলাম, চন্দ্রাবতী একাডেমির স্বত্বাধিকারী কামরুজ্জামান কাজল উপস্থিত ছিলেন।

সংগীতশিল্পী রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের সহধর্মিণী সিদ্দিকা জামান ও ছেলে আনন্দ জামান। বক্তব্য দেন কথাসাহিত্যিক আনিসুল হক, আবুল খায়ের ও অধ্যাপক আবদুল মান্নান।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অধ্যাপক আনিসুজ্জামান আমাদের বাতিঘর। চলে গেছেন, কিন্তু তার কাজ আমাদের কাছে রেখে গেছেন। সেগুলো প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ছড়িয়ে দেওয়া উচিত। তার আদর্শ, চিন্তাভাবনাকে আরও ছড়িয়ে দিতে হবে।

সেলিনা হোসেন বলেন, অধ্যাপক আনিসুজ্জামান আমাদের যেভাবে আলোকিত করেছেন সে আলো আগামী প্রজন্মের কাছে নিয়ে যেতে হবে। মুক্তচিন্তাকে ধারণ করে সমাজকে তিনি এগিয়ে নিয়ে গেছেন। তিনি ইতিহাস, ঐতিহ্যের প্রগতিশীল চিন্তায় স্নাত ছিলেন। ভাষা আন্দোলন থেকে মুক্তিযুদ্ধ এবং পরবর্তী সময়ে জাতীয় সব আন্দোলনে তিনি ছিলেন সামনের কাতারে।

ড. মুহাম্মদ সামাদ বলেন, আনিসুজ্জামান ভাষা আন্দোলনের প্রথম লিফলেট লিখেছিলেন। আনিসুল হক বলেন, আনিসুজ্জামানের জীবন মানে বাংলাদেশের ইতিহাস। তাকে জানলে বাংলাদেশের অনেক ইতিহাস জানা হয়ে যায়। অধ্যাপক আনিসুজ্জামান একজন পণ্ডিত মানুষ। কিন্তু তাঁকে নিয়ে পাণ্ডিত্যপূর্ণ কোনো আলোচনা হচ্ছে না।

রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা বলেন, তিনি ছোটবড় সব মানুষকে সম্মান দিয়েছেন। আর তাই সারাজীবন সম্মান পেয়েছেন। শিল্পের সৌন্দর্য হচ্ছে সরলতা। এই সরলতাও হচ্ছে আনিসুজ্জামানের জীবনের অন্যতম সৌন্দর্য।

শিক্ষাবিদ, লেখক, গবেষক, ভাষাসংগ্রামী, মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী, সংবিধানের অনুবাদক, স্বাধীনতা-পরবর্তী দেশের সব প্রগতিশীল আন্দোলনের অগ্রবর্তী মানুষ আনিসুজ্জামানের জন্ম ১৯৩৭ সালে পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার বসিরহাটে। ২০২০ সালের ১৪ মে বরেণ্য এই গুণী ব্যক্তি ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন।