নাটোরে সন্ত্রাসবিরোধী মিছিল শেষে বাড়ি ফেরার পথে আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের তিন নেতাকর্মীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়েছে দুর্বৃত্তরা। গত শুক্রবার রাতে শহরতলির একডালা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

আহত ব্যক্তিরা হলেন- আবুল হোসেন, লিটন আলী ও আজিজুল ইসলাম। এর মধ্যে আবুল ও লিটনকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আজিজুল নাটোর সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। শনিবার রাতে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত হামলার ঘটনায় থানায় মামলা হয়নি। কাউকে গ্রেপ্তারও করা যায়নি।

নাটোর জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন বিপ্লব অভিযোগ করে বলেন, নাটোর-২ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) শফিকুল ইসলাম শিমুলের অনুসারী পরিবহন শ্রমিক নেতা ইউসুফ আলী, আছের উদ্দীনসহ অচেনা আরও ১০ থেকে ১৫ জন দুর্বৃত্ত তিন যুবলীগ কর্মীর ওপর হামলা চালিয়েছে।

সাবেক পৌর কাউন্সিলর আজিজুল ইসলাম আরজু জানান, নাটোরের সাবেক ছাত্রলীগ নেতা এস এম মাসুদ পারভেজ ও বুলবুল আহমেদের ওপর হামলার প্রতিবাদে শুক্রবার বিকেলে শহরের স্টেশন বাজার এলাকায় সন্ত্রাসবিরোধী বিক্ষোভ সমাবেশ করে যুবলীগ। সমাবেশ শেষে তেবাড়িয়া ইউনিয়নের ইউপি সদস্য ও ৪ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবুল হোসেন, যুবলীগ কর্মী লিটন ও আবদুল আজিজ বাড়ি ফিরছিলেন। রাত ৯টার দিকে তারা একডালা বাজারে দাঁড়ালে দুর্বৃত্তরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকেন।

পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে নাটোর সদর হাসপাতালে পাঠান। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে অবস্থার অবনতি হলে সদর হাসপাতালের চিকিৎসকের পরামর্শে আবুল ও লিটনকে রামেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

নাটোর সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক আল আমিন জানান, আহতদের মধ্যে ইউপি সদস্য আবুল হোসেন ও লিটনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাদের মাথা থেকে পা পর্যন্ত শরীরের বিভিন্ন স্থানে একাধিক কোপের চিহ্ন রয়েছে।

এদিকে হামলাকারীদের গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশকে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছেন জেলা যুবলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন বিপ্লব। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করা না হলে আমরা নাটোর শহর অচল করে দেব।’

এদিকে রাতেই রামেক হাসপাতালে আহত আবুল হোসেন ও লিটনকে দেখতে যান আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন। এ সময় তিনি তাদের সুচিকিৎসার ব্যবস্থার কথা জানান।

সদর থানার ওসি নাছিম আহমেদ জানান, খবর পেয়েই পুলিশ ঘটনাস্থল ও সদর হাসপাতালে অবস্থান নেয়। অভিযানও শুরু করে পুলিশ।

জেলা আওয়ামী লীগের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম রমজানের সমর্থক জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মোর্ত্তোজা আলী বাবলু বলেন, এমপি শিমুলের অনুসারীরা বারবার আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালাচ্ছে। থানায় অভিযোগ আর মামলার পরও পুলিশের অবহেলায় তারা বিচার পাচ্ছেন না।

এ ব্যাপারে এমপি শফিকুল ইসলাম শিমুল বলেন, 'এটা সঠিক নয়। দলের কোনো ক্ষতি আমি করি না। যারা অন্যায় করবে, তারাই শাস্তির আওতায় আসবে। ওরা আমার নাম বলেছে, এটা শিখিয়ে দেওয়া কথা।'

পুলিশ সুপার লিটন কুমার সাহা বলেন, ঘটনার সঙ্গে যারাই জড়িত থাকুক না কেন, আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এরই মধ্যে জড়িতদের ধরতে অভিযান শুরু হয়েছে।