বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, সরকার 'বিদেশি ঋণে' দেশকে বন্দি করে ফেলেছে। এই সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করা না গেলে, জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করা না গেলে দেশ শেষ হয়ে যাবে।

তিনি জানান, এখন স্থানীয় ও বৈদেশিক ঋণ মিলে ঋণের পরিমান ১৩১ বিলিয়ন ডলার। কিন্তু সরকার এটা নিয়েও মিথ্যাচার করছে। সরকার এই ঋণ হিসেবে দেখায় না।

রোববার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি কার্যালয়ে বাংলাদেশ লেবার পার্টি আয়োজিত দলটির প্রতিষ্ঠাতা মাওলানা আবদুল মতীনের ২৭তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় দেশের অর্থনৈতিক চিত্র তুলে ধরে তিনি এসব কথা বলেন।

নজরুল ইসলাম খান বলেন, এই বিশাল ঋণ শোধ করতে হবে। অর্থনীতিবিদরা বলছেন যে, শুধু সাপ্লায়ার্স ক্রেডিটে যে পরিমান ঋণ সেটার শোধ দেয়া শুরু হবে ২০২৫ সাল থেকে এবং তার পরিমান বিলিয়নস অব ডলার। দেশে আমদানি বাড়ছে রপ্তানি কমছে, রেমিট্যান্স কমছে। আর ঋণের বোঝা বাড়ছে, ঋণ শোধ দেয়ার সময় আসছে। এই ঋণ রাষ্ট্র ও জনগনের। কাল যখন আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকবে না তাদের এই ঋণ এসে পড়বে জনগণের ওপর। এই ঋণ শোধ করতে হবে দেশের সাধারণ মানুষকে।

বিদেশি ঋণে মেগা প্রকল্পের নামে অর্থ পাঁচার হচ্ছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, বিদেশি ঋণ নিয়ে সমস্ত মেগা প্রজেক্ট হচ্ছে। যেখানে দুর্নীতি-অনাচার করে কানাডায় বেগমপাড়া, সুইস ব্যাংকে টাকা, সেকেন্ড হোম ইত্যাদি সমানে হচ্ছে। হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাঁচার হচ্ছে।

বর্তমান অবস্থা থেকে উত্তরণে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান জানিয়ে নজরুল ইসলাম খান বলেন, এ অবস্থা থেকে দেশের মানুষকে বাঁচাতে হলে লড়াই করে বিজয়ী হওয়ার কোনো বিকল্প নাই। সেই লড়াইটা হতে হবে ঐক্যবদ্ধ। যারাই এই সরকারের পরিবর্তন চায়, যারাই জনগণের কাছে দায়বদ্ধ এবং জনগণের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে চান তারা সবাই একসাথে লড়াই করে এটা সম্ভব করতে হবে।

লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরানের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় জামায়াতে ইসলামীর মোবারক হোসাইন, গণ অধিকার পরিষদের সদস্য সচিব নুরুল হক নুর, এনডিপির আবু তাহের, মুসলিম লীগের কাজী আবুল খায়ের প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।