জনপ্রতি মুক্তিপণের সাড়ে ৮ লাখ টাকা সোমবারের (১৫ মে) মধ্যে না দিলে সবাইকে হত্যা করে ভূমধ্যসাগরে ভাসিয়ে দেওয়া হবে। লিবিয়ায় জিম্মি হবিগঞ্জের ৯ অভিবাসনপ্রত্যাশীকে এমন হুমকি দিয়েছে মানব পাচারকারী দালাল চক্র। ভূমধ্যসাগর হয়ে ইতালির উদ্দেশে রওনা দেওয়ার পর গত বুধবার তাদের আটক করে মুক্তিপণ দাবি করে এ চক্রটি।

জিম্মি ৯ জনের মধ্যে চারজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন- হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ উপজেলার পশ্চিমবাগ গ্রামের প্রাক্তন প্রাইমারি শিক্ষক আব্দুল মুকিত খানের ছেলে সাজানুর রহমান, একই গ্রামের সজলু মিয়ার ছেলে আফজল, সেকুল মিয়ার ছেলে নাসির ও হবিগঞ্জ শহরের নোয়াবাদ এলাকার মৃত সফর আলীর ছেলে উজ্জ্বল। তারা স্বজনের সঙ্গে কথাও বলেছেন। বাকিদের নাম-ঠিকানা এখনও জানা যায়নি।

জিম্মি সাজানুর রহমানের ভাই অছিউর রহমান জানান, গত বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে সাজানুর ইতালি যাওয়ার উদ্দেশে বাড়ি থেকে বের হন। মৌলভীবাজারের মর্তুজা নামে এক দালালের মাধ্যমে তিনি বেনগাজি পৌঁছান। পরে ছাবু মিয়া নামে আরেক দালালের কাছে সাজানুরকে বিক্রি করে দেয়। সেখানে কোস্টগার্ডের হাতে ধরা পড়লে ৩ লাখ টাকায় মুক্তি পান। পরে দালাল তৈমুর মিয়া ইতালি পাঠানোর দায়িত্ব নেন। তৈমুরের বাড়ি জেলার নবীগঞ্জের ইমামবাড়িতে। তার পরিবার বর্তমানে হবিগঞ্জ শহরের নোয়াবাদ এলাকায় বসবাস করছে বলে জানা গেছে। তৈমুর বর্তমানে ত্রিপলি অবস্থান করছেন। গত বুধবার থেকে প্রত্যেক জিম্মি পরিবারকে সোমবারের মধ্যে সাড়ে ৮ লাখ টাকা করে দেওয়ার জন্য দাবি করছে চক্রটি।

অছিউর রহমান আরও বলেন, আমার ভাইয়ের পাঁচ মাস বয়সী একটি মেয়ে রয়েছে। পরিবারের আর্থিক অবস্থা ফেরানোর জন্যই সে বিদেশের পথে পা বাড়ায়। যদিও আমাদের মত ছিল না। এ পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে ১১ লাখ ৮০ হাজার টাকা দালালরা হাতিয়ে নিয়েছে। একদিকে ভাইয়ের জীবন, অন্যদিকে দালালদের দাবি পূরণ কীভাবে করব, এ নিয়ে চিন্তা করছি। তিনি বলেন, সাজানুর জানিয়েছে তারা একত্রে হবিগঞ্জের ৯ জন রয়েছেন।

জিম্মি নাসির মিয়ার বাবা সেকুল মিয়া বলেন, আমি নৌকা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করি। জমিজমা বিক্রি করে ৯ লাখ টাকা তৈমুর দালালকে দিয়েছি। এখন আরও সাড়ে ৮ লাখ টাকা না দিলে আমার বুকের ধনকে ওরা মেরে ফেলবে। অনেক নির্যাতন চালাচ্ছে ওর ওপর। দয়া করে আমার ছেলেটাকে বাঁচান।

সজলু মিয়ার বাবা আফজল মিয়া বলেন, ৫ মাসেও দালালরা আমার ছেলেকে ইতালি পৌঁছাতে পারেননি। ইতোমধ্যে জমিজমা বিক্রি করে ১৬ লাখ টাকা দালালদের দেওয়া হয়েছে।

সকালে সাজানুর রহমান ও আফজল মিয়ার বাড়িতে সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, এক হৃদয়বিদারক চিত্র। পরিবারের সদস্যরা অনবরত কান্নায় ভেঙে পড়ছেন। যে কোনো মূল্যে ফিরে চাচ্ছেন তাদের বুকের ধনকে। সাজানুর ও আফজলকে ফেরাতে প্রশাসনসহ সবার দোয়া ও সহযোগিতা চেয়েছেন।

হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক ইশরাত জাহান বলেন, বিষয়টি আমার নলেজে নেই। যদি এমনটা হয়ে থাকে তবে তাদের সহযোগিতা করা দরকার। আমি বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখছি।