কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত (নৌকা) প্রার্থী আরফানুল হক রিফাত সদর আসনের সংসদ সদস্যকে নিয়ে শোডাউনসহ সভা করায় আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে তাকে সতর্ক করেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। রোববার দুপুরে রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. শাহেদুন্নবী চৌধুরীর দপ্তরে তাকে তলব করে সতর্ক করা হয়। ভবিষ্যতে রিফাত আচরণবিধি লঙ্ঘন করবেন না বলে আশ্বস্ত করেন।

এর আগে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার পর শনিবার রাতে ঢাকা থেকে কুমিল্লায় আসেন আরফানুল হক রিফাত। এরপর তিনি কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ ক ম বাহাউদ্দিনের সঙ্গে নগরীর রামঘাটে মহানগর আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে যান। এমপি দলীয় মেয়র প্রার্থী ও নেতাকর্মীদের নিয়ে সাংবাদিকদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন। এ সময় মহানগর আওয়ামী লীগ অফিসের সামনে অনেক নেতাকর্মী সমবেত হন। তারা নৌকার পক্ষে স্লোগান দেন। অনুষ্ঠানে এমপি বাহাউদ্দিন রিফাতের হাত ধরে তাকে সবার সামনে উপস্থাপন করেন। রাতেই বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। তাই রোববার দুপুরে রিফাতকে রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. শাহেদুন্নবী চৌধুরী তার কার্যালয়ে তলব করেন।

এ বিষয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তা বলেন, শনিবার দলীয় কার্যালয়ে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের নিয়ে সংসদ সদস্য ও মেয়র প্রার্থী সভা করেন। এটা আচরণবিধি লঙ্ঘনের মধ্যে পড়ে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও বিষয়টি প্রচার হচ্ছে। তাই আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থীকে ডেকে এনে আচরণবিধি মানার জন্য বলা হয়েছে। বিধি মোতাবেক একজন সংসদ সদস্য নির্বাচনী প্রচারণার কোনো পর্যায়ে থাকতে পারেন না।

এ বিষয়ে আ ক ম বাহাউদ্দিন বলেন, আমরা মহানগরের দলীয় কার্যালয়ে এসে ছিলাম। কিন্তু খবর পেয়ে নেতাকর্মীরা সেখানে সমবেত হয়। তাই তাদের সামনে রিফাতকে এনে কিছু কথা বলে বিদায় করে দেয়া হয়। তিনি বলেন, রিফাতের মনোনয়ন জয় আমাদের রাজনীতির একটি বড় অর্জন। মনোনয়ন দাখিলের পর আমার এভাবে প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার সুযোগ নেই। তাই নেতাকর্মীদের সামনে পেয়ে তাদের দিকনির্দেশনা দেয়া হয়েছে, এর বেশি কিছু নয়।

এ সিটির ২৭টি সাধারণ ও ৯টি সংরক্ষিত নারী ওয়ার্ডে মোট ভোটার ২ লাখ ২৭ হাজার ৭৯২ জন। তাদের মধ্যে পুরুষ ১ লাখ ১১ হাজার ৬শ ও নারী ১ লাখ ১৬ হাজার ১৯১ জন। ১০৫ ভোট কেন্দ্রের সবকটিতে ইভিএমে ভোট নেয়া হবে। তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ সময় ১৭ মে ও মনোনয়নপত্র বাছাই ১৯ মে। রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল দায়ের করা যাবে ২০-২২ মে পর্যন্ত। আপিল নিষ্পত্তি করা হবে ২৩-২৫ মে। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ২৬ মে। প্রতীক বরাদ্দ ২৭ মে।