'জসীম পল্লিমেলা ফরিদপুর অঞ্চলের মানুষের প্রাণের স্পন্দন। দীর্ঘদিন পর আবার মেলাটি শুরু হওয়ায় ফরিদপুরে প্রাণের উচ্ছ্বাস জেগেছে। মেলা ঘিরে জেগে উঠেছে সমাজের নানা শ্রেণি-পেশার হাজারো মানুষ।'

রোববার সন্ধ্যায় ফরিদপুরের অম্বিকাপুরে পল্লিকবি জসীম উদ্‌দীনের বাড়ির আঙিনায় কুমার নদের তীরে জসীম উদ্যানে 'জসীম পল্লিমেলা'র উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী বীরবিক্রম।

তিনি বলেন, 'সরকার বহু টাকা ব্যয় করে জসীম সংগ্রহশালা নির্মাণ করেছে। সেটিকে আন্তরিকতা দিয়ে বাঁচিয়ে রাখতে হবে, কার্যকর করে তুলতে হবে। লোকসংস্কৃতি ও সাহিত্য নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে আগ্রহ জাগিয়ে তুলতে জসীম সংগ্রহশালাকে কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

এখন থেকে প্রতিবছর জসীম পল্লিমেলা অব্যাহত রাখার প্রত্যয় জানিয়ে তিনি বলেন, 'পল্লিকবির পরিবার ফরিদপুরবাসীর সুখ-দুঃখে সবসময় পাশে থাকবে।'

ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক ও মেলার আয়োজক জসীম ফাউন্ডেশনের সভাপতি অতুল সরকারের সভাপতিত্বে মেলার উদ্বোধনী সভায় আরও বক্তব্য দেন কবিপুত্র খুরশিদ আনোয়ার, ফরিদপুরের পুলিশ সুপার আলিমুজ্জামান, জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট শামসুল হক ভোলা মাস্টার, হা-মীম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও ঢাকা ইউনিভার্সিটি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এ. কে. আজাদ, ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শামীম হক, সাধারণ সম্পাদক শাহ মোহাম্মদ ইশতিয়াক আরিফ, ফরিদপুরের পৌর মেয়র অমিতাভ বোস ও ফরিদপুর সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক মোল্লা। এ সময় উপস্থিত ছিলেন কবিপুত্র ড. জামাল আনোয়ার, কবির কন্যা আসমা জসীম উদ্‌দীন তৌফিকসহ এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।

এ. কে. আজাদ তার বক্তব্যে বলেন, 'ফরিদপুর এখনও অনেক অনুন্নত। এখানে শিক্ষিত বেকার যুবকদের চাকরি নেই। এই অঞ্চলের দারিদ্র্য ও বেকারত্ব ঘোচাতে স্পেশাল ইকোনমিক জোন প্রতিষ্ঠা করা জরুরি। এটি প্রতিষ্ঠিত হলে বেকারত্ব অনেক কমে আসবে, সৃষ্টি হবে কর্মসংস্থান।'

এ ব্যাপারে তিনি প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, এই অঞ্চলের যত উন্নয়ন এ সরকারের আমলে হয়েছে, তাকে স্থায়ী রূপ দিতে অর্থনৈতিক উন্নয়নের দিকে নজর দেওয়ার কোনো বিকল্প নেই। তিনি শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের আরও বেশি পড়ালেখা এবং নিজেকে ভবিষ্যতের জন্য যোগ্য করে গড়ে তোলার তাগিদ দেন।

সভাপতি অতুল সরকার বলেন, ফরিদপুরবাসীর দাবির পরিপ্রেক্ষিতে জানুয়ারিতে সম্ভব না হলেও শেষ পর্যন্ত পল্লিমেলার আয়োজন করা হয়েছে। এতে করে পল্লিকবির অমর সৃষ্টি লোকগান, কবিতা ও সাহিত্য অনুরাগীরা তার সৃষ্টি সম্পর্কে আরও বেশি জানতে আগ্রহী হবেন। মেলায় শিল্পীরা তাদের পণ্য নিয়ে আসবেন, আমাদের দেশীয় সংস্কৃতি বিকাশের অনন্য মাধ্যম এই মেলা। আমরা প্রতিবছরই মেলা অব্যাহত রাখার ব্যাপারে আশাবাদী।

এর আগে বেলুন উড়িয়ে পক্ষকালব্যাপী মেলার উদ্বোধন ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী বীরবিক্রম। উদ্বোধন অনুষ্ঠানের পর রাতে ফরিদপুর সাহিত্য ও সংস্কৃৃতি উন্নয়ন সংস্থা ও জসীম ফাউন্ডেশনের শিল্পীরা গান ও কবিতা আবৃত্তির মাধ্যমে দর্শক শ্রোতাদের মুগ্ধ করেন।