জসিমউল আনোয়ার। পটিয়ার কাশিয়াইশ ইউনিয়নের পিঙ্গলা খলিফাপাড়ার এই বাসিন্দা একটি খুনের মামলার আসামি। তবে চট্টগ্রাম নগরে তিনি একজন 'পুলিশবান্ধব সমাজসেবক'; পাঁচলাইশ থানার ৩৬ নম্বর বিট পুলিশ শুলকবহর ও বাদুরতলা এলাকার সভাপতি!

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নিউজফিডের এক ছবিতে দেখা যায়, শহরে পাঁচলাইশ থানার ওসির সঙ্গে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় করছেন খুনের মামলার আসামি জসিমউল। তারপর এ নিয়ে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা।

প্রসঙ্গত, পটিয়ার কাশিয়াইশ ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান আবুল কাশেমের ছোট ভাই এবিএম সোহেল চৌধুরী খুনের মামলার এজাহারের ৬ নম্বর আসামি জসিমউল আনোয়ার। ওই মামলার বাদী কাশেম চেয়ারম্যান।

এ প্রসঙ্গে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পটিয়া থানা পুলিশের এসআই আহসান হাবিব বলেন, মামলার এজাহারভুক্ত ৮ আসামির মধ্যে তিন জন গ্রেপ্তার হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়েছে। অভিযুক্ত জসিমউল আনোয়ার হাইকোর্ট থেকে জামিন নিয়েছেন। অন্য আসামিরা পলাতক। তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। রাজনৈতিক বিরোধের জেরে এ খুনের ঘটনা ঘটেছে বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

জসিমউল আনোয়ার বলেন, পটিয়ায় আমার বাবার নামে হওয়া মফিজুর রহমান বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের কমিটি নিয়ে চেয়ারম্যান কাশেমের সঙ্গে আমার বিরোধ রয়েছে। মামলা করার দুই বছর পর আমি হাইকোর্টের নির্দেশে স্কুল কমিটির সভাপতি হই। ইউপি নির্বাচনে আমি স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে ছিলাম। এসব বিরোধের কারণে আমাকে খুনের মামলার আসামি করা হয়েছে। আমি খুনের সঙ্গে জড়িত নই।

তিনি বলেন, বিট পুলিশের সভাপতি হিসেবে ঈদে ওসি নাজিম উদ্দিন মজুমদারের সঙ্গে আমরা শুভেচ্ছা বিনিময় করেছি। হাইকোর্ট থেকে এক মাসের অন্তর্বর্তীকালীন জামিনও নিয়েছি খুনের মামলায়। আমার কোনো কিশোর গ্যাং নেই। পুলিশকে সহযোগিতা করি মাত্র।

তিন মাস আগে পটিয়ায় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন ও রাজনৈতিক পূর্বশক্রতার জের ধরে কাশিয়াইশ ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান আবুল কাশেমের ছোট ভাই মো. সোহেল ছুরিকাঘাতে খুন হয়। এ ঘটনায় আরও তিনজন আহত হন। গত ২২ এপ্রিল রাতে পটিয়ার শান্তিরহাট বুধপুরা বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

জসিমউল আনোয়ার নগরের পাঁচলাইশ থানার শুলকবহর এলাকায় বসবাস করেন। তিনি নগরের ৩৬ নম্বর বিট পুলিশ এলাকার বাসাবাড়িতে বসবাসকারী সাধারণ ভাড়াটিয়াদের তথ্য ফরমের তথ্য সংগ্রহে পুলিশকে সহযোগিতা করেন। বিট পুলিশের অফিসারকে সঙ্গে নিয়ে স্থানীয় দ্বন্দ্ব-বিরোধ মিটিয়ে থাকেন। এসব কাজের জন্য এলাকায় তিনি একটি নিজস্ব কিশোর গ্রুপও তৈরি করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

সোহেল হত্যা মামলার বাদী আবুল কাশেম চেয়ারম্যান বলেন, জসিমউলরা কয়েকজন ৯ নম্বর ওয়ার্ডে একটি ইফতার পার্টির পর পুকুর ঘাটে গিয়ে বৈঠক করে আমার ভাই সোহেলকে খুন করার পরিকল্পনা করেন। সে খুবই ভয়ংকর। কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গেও যুক্ত সে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, 'আমাদের পরিবারেরই নিজস্ব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। আমরা সেখানেই সময় দিতে পারি না। অন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নিয়ে মাথা ঘামানোর সময় ও সুযোগ কোনোটাই আমাদের নেই। নিজের অপরাধ আড়াল করতে তিনি এসব বলছেন।'