সরকারি সংস্থার আবাসিক এলাকায় এডিস মশার লার্ভা পেলেই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুশিয়ার করেছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস।

শেখ তাপস বলেন, ‘আমরা দেখি যে, এ ব্যাপারে অনেক সময় সরকারি সংস্থাগুলো যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করেন না। সেজন্য সরকারি সংস্থাগুলোকে আশু পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে, নইলে আমরা কঠোর ব্যবস্থা নেব।’

সোমবার বিকেলে নগর ভবনের মেয়র হানিফ মিলনায়তনে এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গু ও চিকনগুনিয়া রোগ প্রতিরোধে মতবিনিময় সভায় সভাপতির বক্তব্যে ডিএসসিসি মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস এ হুশিয়ারি দেন।

নির্মাণাধীন ভবন ৪০ শতাংশ ডেঙ্গু সংক্রমণের জন্য দায়ী মন্তব্য শেখ তাপস বলেন, ‘নির্মাণাধীন ভবনগুলো আমাদের মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত করছে। আমরা প্রতিনিয়ত অভিযান করছি, ক্ষেত্রবিশেষে জরিমানাও করা হচ্ছে। কিন্তু তারপরও আবাসন ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে কোনও ধরনের দৃশ্যমান উদ্যোগ বা কার্যক্রম আমরা দেখছি না। আপনারা যদি এডিস মশার প্রজননস্থল সৃষ্টি হয় এমন পরিবেশের উন্নতি না করেন, তাহলে আগামী দিনে শুধু জরিমানাই করব না, আপনাদের ভবন নির্মাণ কার্যক্রমই বন্ধ করে দেওয়া হবে।’ 

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক কীটতত্ত্ববিদ ড. কবিরুল বাশার মতবিনিময়ে অংশ নিয়ে বলেন, ‘কিউলেক্স মশার ক্ষেত্রে সিটি করপোরশনকে দায়ী করা গেলেও এডিস মশার ক্ষেত্রে তা করা যায় না। কারণ এডিস মশা বড়িতে জন্মায়। সেজন্য এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে ব্যক্তিগত সচেতনতা জরুরি। তাই এডিস মশা নিয়ন্ত্রণ করতে হলে আমাদেরকে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।’    

মতবিনিময় সভায় দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর, ডিএসসিরি প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ফরিদ আহাম্মদ, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এয়ার কমোডর সিতওয়াত নাঈম, রাজউক (উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ) সদস্য মো. শফিউল হক, বিজিবি সদর দপ্তরের ডাইরেক্টর (সিএমএসডি) লেফটেন্যান্ট কর্ণেল নূরজাহান আক্তার, ঢাকা ওয়াসার প্রধান প্রকৌশলী মো. কামরুল হাসান, উপ-পুলিশ কমিশনার (ওয়েলফেয়ার অ্যান্ড ফোর্স) মোহাম্মদ মোয়াজ্জেম হোসেন ভূইয়াসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।