মাদারীপুর শহরের লঞ্চঘাট এলাকায় সোমবার বিকেলে অহিদ হাওলাদার ও কামাল সরদার নামে দুই যুবককে কুপিয়ে জখম করেছে সন্ত্রাসীরা। ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পূর্বশত্রুতার জেরে এ হামলা হয়েছে বলে জানা যায়। হামলাকারীদের বিচারের দাবি জানান ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা। পুলিশ জানায়, এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হবে।

জানা যায়, সোমবার বিকেলে লঞ্চঘাট এলাকায় অহিদ হাওলাদার ও কামাল সরদারকে কুপিয়েছে সন্ত্রাসীরা। অহিদ হাওলাদার বিকেলে বাসার নিত্যপ্রয়োজনীয় মালামাল কেনার জন্য দোকানে আসেন। তখন ৯-১০ জন লোক দেশীয় অস্ত্রসহ মোটরসাইকেলযোগে লঞ্চঘাট এলাকায় এসে অহিদ হাওলাদারের ওপর হামলা চালায়।

এ সময় সন্ত্রাসীরা তাকে এলোপাথাড়ি কোপাতে শুরু করে। এ সময় স্থানীয়রা বাধা দিলে হামলায় কামাল সরদার নামে আরেক যুবককে কোপ দেয় সন্ত্রাসীরা। পরে লোকজন জড়ো হতে থাকলে সন্ত্রাসীরা সেখান থেকে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা আহতদের মাদারীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করে।

স্থানীয়রা জানায়, পৌরসভা (বটতলা) এলাকার নোবেল বেপারী ও তার সঙ্গীরা এসে এ হামলা চালিয়েছে। মাদারীপুর শহরের কিশোর গ্যাংয়ের মধ্যে অন্যতম নোবেল বাহিনী। কয়েক মাসে কয়েকটি ঘটনার সাথে এ বাহিনীর সম্পৃক্তরা কথা জানা যায়। নোবেল ছাত্রলীগের পৌরসভা শাখার (একাংশ) সভাপতি হওয়ায় প্রশাসনকে তোয়াক্কা না করে প্রতিনিয়তই ঘটিয়ে যাচ্ছে নানা ধরনের ঘটনা। এ বাহিনীর বিভিন্ন সদস্যের নামে রয়েছে একাধিক মামলা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, অস্ত্র-শস্ত্রে সজ্জিত হয়ে আসে সন্ত্রাসী বাহিনী। এসেই কোপাতে শুরু করে। এ সময় দুজন মারাত্ম আহত হয়। এ বাহিনীকে নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে শহর বসবাসের অনুপযোগী হয়ে যাবে।

আহত অহিদ হাওলাদারের স্ত্রী সোমা বেগম বলেন, বাচ্চার জন্য খাবার আনতে মুদি দোকানের সামনে যায় আমার স্বামী। তখন ৩-৪ টা মোটরসাইকেলে রাম দা, চাইনিজ কুড়ালসহ আমার স্বামীর ওপর হামলা চালায় নোবেল বেপারী, অন্তর, রুবেল, সোহান, বাপ্পী ও পারভেজসহ ৯-১০ জন সন্ত্রাসী।

আহত কামাল সরদারের ভাই ইমরান সরদার বলেন, শহরের বিভিন্ন অপকর্মের জড়িত নোবেল বাহিনী। নেতাদের আশ্রয়ে থাকার কারণে সাধারণ মানুষ তাদের বিরুদ্ধে কোনো প্রতিবাদ করতে পারে না। আমার ভাইকে কেন কোপাল? আমি সন্ত্রাসীদের বিচার চাই। 

অভিযুক্ত নোবেল বেপারী বলেন, পাঁচখোলা ইউনিয়নে নদী থেকে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করার প্রতিবাদ করায় দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়। তবে হামলার ঘটনার সঙ্গে আমি জড়িত নই।

মাদারীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল ইসলাম মিঞা বলেন, আমি হাসপাতালে গিয়ে আহতদের সঙ্গে কথা বলেছি। এ ঘটনায় জড়িতদের ধরতে চেষ্টা করছি। ভুক্তভোগীরা এখনো মামলা করেনি। মামলা করলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।