লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে রোজিনা আক্তার (১৫) নামের এক মাদ্রাসাছাত্রীকে হত্যার দায়ে চারজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বুধবার বেলা ১১ টার দিকে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ রহিবুল ইসলাম এ রায় দেন।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- রায়পুর পৌরসভার দেনায়েতপুর গ্রামের মৃত হানিফ মিয়ার ছেলে আমির হোসেন আল আমিন ওরফে কয়লা (২৬), একই এলাকার পৌর ৮ নম্বর ওয়ার্ডের আবুল কালামের ছেলে মো. হুমায়ূন কবির (৩৪), আবদুল মতিনের মেয়ে আখি আক্তার রুমা (২৫) ও বামনী গ্রামের মৃত মোস্তফার ছেলে মো. বাহার ওরফে জামাই বাহার (৩১)। রায় ঘোষণার সময় আসামিদের মধ্যে আমির হেসেন কয়লা এবং আখি আক্তার রুমা উপস্থিত ছিলেন। বাকীরা পলাতক রয়েছেন।

নিহত রোজিনা আক্তার রায়পুর পৌরসভার দেনায়েতুপুর গ্রামের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বিধবা মনেয়ারা বেগমের পালক মেয়ে।

জেলা জজ আদালতের সরকারী কৌঁশুলি অ্যাডভোকেট জসিম উদ্দিন রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, প্রধান অভিযুক্ত আমির হোসেন আল আমিনের বিয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় ২০১৬ সালের ১১ ডিসেম্বর অন্য আসামিদের সহযোগিতায় রোজিনাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। এ ঘটনার পরদিন ভিকটিমের মা মনোয়ারা বেগম বাদী হয়ে রায়পুর থানায় অজ্ঞাতদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। পুলিশের তদন্তে ঘটনার সাথে জড়িত চারজন শনাক্ত হয়। আদালত দীর্ঘ শুনানি শেষে ওই চারজনে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দেন।

আদালত ও মামলা সূত্র জানায়, ভিকটিম রোজিনা আক্তার রায়পুর উপজেলার দেনায়েতপুর গ্রামের খাদিজাতুল কোবরা মহিলা মাদ্রাসার তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। ২০১৬ সালের ১১ ডিসেম্বর সে বাড়ি থেকে দুপুরে খাবার খেয়ে মাদ্রাসার উদ্দেশ্যে বের হয়। ওইদিন সে আর বাড়ি ফিরে আসেনি। পরদিন ওই এলাকার ফারুকীয়া মাদ্রাসার পাশের একটি পরিত্যক্ত বাউন্ডারি ঘেরা বাগানের ভেতর রেজিনার মৃতদেহ পাওয়া যায়।

এরপর পুলিশ তদন্তে ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত আখি আক্তার রুমা নামে এক নারীকে গ্রেপ্তার করলে তিনি আদালতে ঘটনার দায় স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। তার জবানবন্দি অনুসারে ঘটনার মূল হোতা আমির হেসেন আল আমিন ওরফে কয়লাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ২০১৭ সালের ২৮ জুন রায়পুর থানা পুলিশ ঘটনার সাথে জড়িত চার জনের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে।