সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার প্রায় সবকটি ইউনিয়নের নিচু এলাকা বন্যায় প্লাবিত হয়েছে। তবে এর মধ্যে বাঘা ও ফুলবাড়ি ইউনিয়নে বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। কয়েকদিনের অব্যাহত বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে সুরমা-কুশিয়ারা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে নদী তীরবর্তী  বিভিন্ন জনপদের পাশাপাশি স্কুল, কলেজ, মসজিদ, হাটবাজারে বন্যার পানি ঢুকে পড়ায় মানুষ অসহায় হয়ে পড়েছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন উপজেলার অর্ধ লক্ষাধিক মানুষ।

জানা যায়, মঙ্গলবার সকাল থেকে পানি বৃদ্ধি পেয়ে ঘরবন্দি রয়েছেন বাঘা ও ফুলবাড়ি ইউনিয়নের অর্ধ লক্ষাধিক মানুষ। বাঘা ইউনিয়নের রুস্তুমপুর, জালালনগর, খালোপার, কান্দিগাও, লামাপাড়া, মজিদপুর, নলুয়াসহ বিভিন্ন এলাকা মানুষ বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে। ফুলবাড়ি ইউনিয়নের শিংপুর ডাইক ভেঙ্গে হেতিমগঞ্জ, হাজিপুর,শিংপুর গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।

এদিকে সিলেটের সদরের সাথে যোগাযোগ স্থাপনকারী গাজী বোরহান উদ্দিন সড়কে বাঘা ইউনিয়নের নলুয়া এলাকায় বন্যার পানি বৃদ্ধি পেয়ে এ সড়ক দিয়ে যানবাহন চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হওয়ায় দুর্ভোগে রয়েছেন কানাইঘাটসহ তিনটি উপজেলার মানুষ।

বাঘা ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুস সামাদ জানান, বন্যার পানিতে বাঘা ইউনিয়নে ভয়াবহ অবস্থা ধারণ করেছে। তার ইউনিয়ন নিচু ও সমতল হওয়ায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এ এলাকার মানুষ। বিশুদ্ধ পানীয় জলের অভাবসহ গোবাদি পশুর খাদ্যসংকট প্রকট আকার ধারণ করার পাশাপাশি গৃহপালিত প্রাণী নিয়ে বিপাকে রয়েছেন। কেউ কেউ খাটের ওপর গৃহপালিত পশু রাখার পাশাপাশি নিরাপদ আশ্রয়ে ছুটছেন। নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ার সাথে নদী ভাঙ্গনে একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, নদী তীরবর্তী হাটবাজার, লোকালয় ঝুঁকিতে রয়েছে। শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানে পানি ঢুকে পড়ায় বিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান জানান, বাঘার অবস্থা সবচেয়ে ভয়াবহ। এছাড়াও ফুলবাড়ি ইউপির শিংপুর এলাকা প্লাবিত হয়েছে। তিনি বলেন, উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল শরীফগঞ্জ, বুধবারিবাজার ও বাদেপাশা ইউপি দিয়ে প্রবাহিত কুশিয়ারা নদীর পানিও মঙ্গলবার থেকে অব্যাহতভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। কুশিয়ারা তীরবর্তী উপজেলার শিকপুর ফেরিঘাট এলাকায় নদীর পানি বিপদ সীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। শরীফগঞ্জ ইউপি চেয়ারম্যান এম কবির উদ্দিন জানান, তার ইউনিয়নের পনাইরচক উচ্চ বিদ্যালয়ের সীমানা প্রাচীর বানের স্রোতে ভেঙে পড়েছে। তাছাড়া আমনের বীজতলা তলিয়ে গেছে।

এ ব্যাপারে গোলাপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. গোলাম কবীর বলেন, বন্যায় সবচেয়ে বেশি বাঘা ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। দক্ষিণবাঘায় আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে। তাছাড়া এসব এলাকার বানভাসী মানুষের মধ্যে শুকনো খাবার বিতরণ করা হবে।