দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ইফতেখারুল ইসলাম খানের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি। বুধবার সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত সংসদীয় কমিটির বৈঠকে এই সুপারিশ করা হয়।

বৈঠকে কমিটির সভাপতি শাজাহান খানের সভাপতিত্বে কমিটির সদস্য মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, রফিকুল ইসলাম বীরউত্তম ও কাজী ফিরোজ রশীদ অংশ নেন।

এর আগে ইফতেখারুল ইসলাম খানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তদন্ত করেছিল সংসদীয় কমিটি। ওই তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, 'ইফতেখারুল ইসলামের আর্থিক লেনদেন, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং নিয়ম ভঙ্গের বিষয়টি সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়েছে। দুর্নীতিতে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছিলেন তিনি।'

সংশ্নিষ্ট সূত্র জানায়, সাবেক ওই এমডির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংসদীয় কমিটির তদন্ত প্রতিবেদনটি মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছিল। তবে ইফতেখারুল ইসলাম এখন আর কল্যাণ ট্রাস্টে নেই। তিনি অবসর প্রস্তুতিকালীন ছুটিতে (পিআরএল) আছেন। সে হিসাবে তিনি এখন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অধীনে। তাই সংসদীয় কমিটির প্রতিবেদনটি গত ১৬ মে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও ওই চিঠিতে বলা হয়েছে। গতকালের সংসদীয় কমিটির বৈঠকে এই অগ্রগতির কথা জানায় মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়।

বৈঠক শেষে সংসদীয় কমিটির সভাপতি শাজাহান খান উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ইফতেখারুল ইসলাম খানের বিরুদ্ধে দুর্নীতি-অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনটি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে বলেছে কমিটি।

সই-বিহীন কাগজপত্রে কমিটির ক্ষোভ: মন্ত্রণালয় থেকে সই, সিল ও তারিখবিহীন কাগজপত্র উপস্থাপনে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে সংসদীয় কমিটি। এ ছাড়া বৈঠকে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি নিদর্শন সংবলিত অপারেশন জ্যাকপট নিয়ে সিনেমা তৈরি, এমভি ইকরাম সংরক্ষণ ও কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পে ধীরগতির কথা উল্লেখ করে মন্ত্রণালয়ের সংশ্নিষ্ট কর্মকর্তাদের সংসদীয় কমিটিতে তলব করা হয়েছে।

বৈঠক শেষে সংসদ সচিবালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে- বৈঠকে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি নিদর্শন সংবলিত অপারেশন জ্যাকপটের স্মৃতি, এমভি ইকরাম সংরক্ষণ ও কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পে ধীরগতি লক্ষ্য করায় মন্ত্রণালয়ের সংশ্নিষ্ট কর্মকর্তাদের আগামী বৈঠকে কমিটির কাছে কারণ দর্শানোর সুপারিশ করা হয়। এ ছাড়া বৈঠকে যথাযথ স্বাক্ষর, সিল ও তারিখবিহীন কাগজপত্র উপস্থাপন করায় ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়।

বৈঠকে বিশেষায়িত ২২টি হাসপাতালসহ সরকারি হাসপাতালগুলোতে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসা সম্পূর্ণরূপে বিনামূল্যে করার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ এবং মুক্তিযোদ্ধাদের প্রাপ্য সুযোগ-সুবিধা সংবলিত বুকলেটের প্রয়োজনীয় সংশোধনীসহ ১৫ দিনের মধ্যে চূড়ান্ত করার সুপারিশ করা হয়।

বৈঠকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের চলমান প্রকল্প দ্রুততম সময়ে শেষ করা, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়নে মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টকে বড় আকারের প্রকল্প গ্রহণ এবং মাদারীপুরে বধ্যভূমি প্রকল্পে কাজের ধীরগতির ফলে সংশ্নিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়। এ ছাড়া ১ ডিসেম্বরকে 'মুক্তিযোদ্ধা দিবস' হিসেবে অনুমোদন গ্রহণের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে একটি সারসংক্ষেপ পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে বৈঠকে জানানো হয়।