রংপুরের মিঠাপুকুরে একটি নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে মারধরের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে। গত মঙ্গলবার দুপুরে ঘটনার এক পর্যায়ে চেয়ারম্যানের সহযোগীরা বিদ্যালয় থেকে ওই শিক্ষককে গলাধাক্কা দিয়ে বের করে দেন। এ নিয়ে বুধবার থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন মিয়ারহাট নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বাদল মিয়া।

এ ঘটনায় অভিযোগ ওঠা জয়নাল আবেদিন স্থানীয় কাফ্রিখাল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবং মিঠাপুকুর উপজেলা জামায়াতের আমির। তিনি ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ছিলেন। সহিংসতার একাধিক মামলায় দীর্ঘদিন পালিয়ে থাকার কারণে কয়েক বছর আগে বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদ তাকে সাময়িক বরখাস্ত করেছিল। সম্প্রতি তিনি কাফ্রিখাল ইউপি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মঙ্গলবার দুপুরে সহযোগীদের নিয়ে হঠাৎ বিদ্যালয়টিতে যান ইউপি চেয়াম্যান জয়নাল আবেদীন। সেখানে তিনি উত্তেজিত কণ্ঠে ভারপ্রাপ্ত প্রধানসহ অন্য শিক্ষকদের কাছে জানতে চান- বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদের সভা হয়নি কেন এবং তাকে কেন প্রধান শিক্ষক পদে বহাল করা হয়নি? এর পরই চেয়ারম্যান ও তার লোকজন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বাদল মিয়াকে মারধর করেন। গলাধাক্কা দিয়ে তাকে বিদ্যালয় থেকে বের করেও দেওয়া হয়। বাধা দিতে গিয়ে এ সময় হামলার শিকার হন অন্য শিক্ষক-কর্মচারীরাও।

শিক্ষক বাদলকে মিঠাপুকুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি জানান, মঙ্গলবার লোকজন নিয়ে আকস্মিক তাঁর অফিস কক্ষে ঢোকেন ইউপি চেয়ারম্যান ও বিদ্যালয়ের বরখাস্ত করা প্রধান শিক্ষক জয়নাল আবেদীন। তাঁকে প্রধান শিক্ষক পদে বহাল কেন করা হয়নি- এ নিয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়েন তিনি। এক পর্যায়ে তাঁর ওপর হামলা করেন।

তবে চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীনের দাবি, জামায়াতের রাজনীতি করায় তার নামে বিভিন্ন মামলা হয়েছে। এ কারণে ২০১৪ সালে তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করেছিল তৎকালীন পরিচালনা কমিটি। হাইকোর্টে রিট করার পর ২০২০ সালে তাঁকে বিদ্যালয়ে পুনর্বহালের আদেশ দেওয়া হয়। তবে গত দুই বছর ধরে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক টালবাহানা করে আসছেন। এ বিষয়ে কথা বলতে তিনি বিদ্যালয়ে গিয়েছিলেন। সেখানে তাঁকে অপমান করায় পরিস্থিতি খারাপ হয়।

বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি ও ইউপি সদস্য ফুয়াদ মণ্ডল বলেন, বিদ্যালয়ে মারামারির ঘটনাটি শুনেছি। তবে বিস্তারিত বলতে পারছি না। মিঠাপুকুর থানার ওসি মোস্তাফিজার রহমান বলেন, এ ঘটনায় ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক একটি অভিযোগপত্র দিয়েছেন। তদন্ত করা হচ্ছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।