দেশে প্রতি পাঁচজনে একজন প্রাপ্তবয়স্ক উচ্চ রক্তচাপে ভুগছেন। মোট জনসংখ্যার হিসাবে এ হার ২১ শতাংশ। রাজধানীর ফার্স হোটেলে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আয়োজিত মতবিনিময় অনুষ্ঠানে বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ (এনসিডিসি) প্রোগ্রামের কর্মকর্তারা এ তথ্য জানান।

বিশ্ব উচ্চ রক্তচাপ দিবস উপলক্ষে গ্লোবাল হেলথ অ্যাডভোকেসি ইনকিউবেটরের (জিএইচএআই) সহায়তায় এনসিডিসি প্রোগ্রাম, প্রজ্ঞা (প্রগতির জন্য জ্ঞান) ও ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশ সম্মিলিতভাবে এ আয়োজন করে।

সভায় উচ্চ রক্তচাপের কারণে বিভিন্ন অসংক্রামক রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে। এ বিষয়ে সচেতনতা তৈরি, ওষুধ এবং চিকিৎসাসেবা সহজলভ্য করতে উদ্যোগ আছে সরকারের। তবে পরিস্থিতি মারাত্মক রূপ নেওয়ায় সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি সংস্থাসহ সংশ্নিষ্ট সব পক্ষকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান বিশেষজ্ঞরা।

এ সময় জানানো হয়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির আওতায় ২০১৮ সাল থেকে দেশের বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে এনসিডিসি কর্নার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্তদের বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা দিতে 'উচ্চ রক্তচাপ শনাক্তকরণ, চিকিৎসা এবং ফলোআপ' কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার পরিচালক অধ্যাপক ডা. রোবেদ আমিন বলেন, উচ্চ রক্তচাপের সংকট মোকাবিলায় স্বাস্থ্য খাতসহ সরকারের অন্যান্য প্রতিষ্ঠান, বেসরকারি সংস্থা, গণমাধ্যম সবাইকেই সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।

ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি জাতীয় অধ্যাপক ব্রিগেডিয়ার (অব.) আব্দুল মালিক বলেন, উচ্চ রক্তচাপ প্রতিরোধ ব্যবস্থার ওপর জোর দিতে হবে। বক্তারা অতিরিক্ত লবণ খাওয়া বন্ধ করা, ট্রান্স ফ্যাটযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলা, তামাক ও মদ্যপান থেকে বিরত থাকা, অতিরিক্ত ওজন কমানো এবং নিয়মিত ব্যায়াম ও শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকার পরামর্শ দেন।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন গ্লোবাল হেলথ অ্যাডভোকেসি ইনকিউবেটরের বাংলাদেশের প্রধান মুহাম্মাদ রূহুল কুদ্দুস, ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের রোগতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ডা. সোহেল রেজা চৌধুরী ও কার্ডিওলজি বিভাগের কনসালট্যান্ট ডা. মীর ইশরাকুজ্জামান এবং প্রজ্ঞার নির্বাহী পরিচালক এবিএম জুবায়ের।