আল-জাজিরার সাংবাদিক শিরিন আবু আকলেহকে হত্যার আগে তার সঙ্গে ইসরায়েলি সৈন্যদের সঙ্গে কোনো সংঘর্ষ হয়নি। সম্প্রতি প্রকাশিত এক ভিডিও থেকে এই তথ্য জানা গেছে। ইসরায়েলি সৈন্যরা গুলি চালানোর আগে সেখানে সাংবাদিকেরা কাজে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এর ফলে, ইসরায়েলি বাহিনীর দাবি করা সংঘর্ষের বিষয়টি ভিত্তিহীন বলা হচ্ছে।

ভিডিওটি ধারণ করেছেন জেনিনের একজন বাসিন্দা। সেটি যাচাই করে দেখেছে আল-জাজিরা। ঘটনার শুরুতে দেখা যায়, কোনো ধরনের গোলাগুলির শব্দ নেই। শিরিনকে গুলি করার সময় ইসরায়েলি বাহিনী ও ফিলিস্তিনি বিক্ষোভকারীদের মধ্যে কোনো সংঘর্ষ হয়নি, পরিস্থিতি ছিল শান্ত-প্রত্যক্ষদর্শীদের এ বক্তব্যকেই সমর্থন করছে ভিডিও চিত্রটি। অথচ ইসরায়েলের দাবি, তখন সংঘর্ষ চলছিল।

ভিডিও চিত্রে শিরিনসহ সামনে থাকা কিছু লোককে পেছনের লোকজনের সঙ্গে কথা বলতে ও হাসতে দেখা যায়। প্রেস লেখা বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট পরিহিত তার কয়েকজন সহকর্মীকেও এই ভিডিওতে দেখা যায়।

গুলির শব্দ শুরুর আগে যেখানে ইসরায়েলি সেনারা অবস্থান করছেন, সেদিকে শিরিন ও অন্য সাংবাদিকদের হেঁটে যেতে দেখা যায়। সেনারা হঠাৎ গুলি ছোড়া শুরু করলে তারা পালাতে শুরু করেন। এ সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে শিরিনকে সড়কে পড়ে থাকতে দেখা যায়।

যে বন্দুকের গুলিতে শিরিন নিহত হয়েছেন, ইসরায়েলি সেনাবাহিনী সম্ভবত সেটি শনাক্ত করতে পেরেছে বলে জানিয়েছে তারা। তবে বলেছে, ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ বুলেটটি হস্তান্তর না করলে তারা বিষয়টি নিশ্চিত করতে পারবে না।

ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা তাদের নিজস্ব তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।

আস্থাহীনতার অতীত অভিজ্ঞতার কারণে তারা ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের কাছে বুলেট হস্তান্তরে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

এদিকে গত শুক্রবার নিউইয়র্ক টাইমসে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরায়েলি পুলিশ কর্মকর্তারা জেরুজালেমে শিরিনের শেষকৃত্য অনুষ্ঠানের আগে শোকমিছিলে ‘শোকার্তদের লাঠিপেটা করেছিলেন ও লাথি মেরেছিলেন’। পাশাপাশি ‘প্যালবেয়ারদের (কফিন বহনকারী) একরকম কফিন ফেলতে বাধ্য করেছিলেন’ তারা।