কুড়িগ্রামের রৌমারীতে হাফসা আক্তার হারেনা (২৫) ও তার পাঁচ মাস বয়সী শিশু সন্তান আহসান হাবিবকে গলাকেটে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। 

শনিবার সকাল ৭টার দিকে উপজেলার সদর ইউনিয়নের নতুন বন্দর নামক এলাকা থেকে তাদের উদ্ধার করে পুলিশ। হারেনা ও হাবিব উপজেলার সদর ইউনিয়নের নতুন বন্দর এলাকার হারুনুর রশিদের মেয়ে ও নাতি।

নিহতের স্বজন ও স্থানীয়রা জানান, দেড় বছর আগে সদর ইউনিয়নের নতুন বন্দর গ্রামের হারুনুরের মেয়ে হারেনার সঙ্গে পার্শ্ববর্তী শৌলমারী  ইউনিয়নের ওকড়াকান্দা গ্রামের মৃত বাহাদুর আলীর ছেলে দিনমজুর সাহেব আলীর বিয়ে হয়। পরে তাদের সংসারে হাবিব নামের এক ছেলে সন্তানের জন্ম হয়। গত ঈদুল ফিতরের পরদিন স্ত্রী সন্তানকে শ্বশুরবাড়িতে রেখে কাজের সন্ধানে টাঙ্গাইল যান সাহেব আলী। 

বৃহস্পতিবার বিকেলে অসুস্থ শিশু সন্তানকে নিয়ে শৌলমারী ইউনিয়নের ওকড়াকান্দা গ্রামের গোলাম শহীদের ছেলে উকিল বাবা জাকির হোসেন ওরফে জফিয়ালের বাড়িতে যান হারেনা। সেখানে তিনি রাত্রি যাপন করেন। শুক্রবার সকালে ওই উকিল বাবাকে সঙ্গে নিয়ে কুড়িগ্রামে যান তিনি। ওই দিন বিকেলের পর থেকে মোবাইল ফোনে বার বার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার আর সন্ধান পাননি স্বজনরা। 

শনিবার সকালে বাবার বাড়ির প্রতিবেশী আব্দুর সবুরের বাড়ির পাশের পুকুরের কিনারায় গলাকাটা মুমূর্ষু অবস্থায় মা ও পাশের ধানখেত থেকে শিশু সন্তানের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে হারেনাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্যত্র নিয়ে যাওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। 

নিহতের ভাবী খাদিজা আক্তার বলেন, বিয়ের পর থেকেই উকিল বাবা জফিয়ালই বেশির ভাগ সময় হারেনাকে আনা-নেওয়া করতেন। বৃহস্পতিবার বিকেলে অসুস্থ সন্তানের চিকিৎসার কথা বলে বাবার বাড়ি থেকে ওই উকিল বাবার বাড়িতে যান। উকিল বাবার প্রতি অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, ‘এ ঘটনা তিনি (জফিয়াল) ঘটাতে পারেন।’

অভিযোগের বিষয়ে জানতে জফিয়ালের বাড়িতে গিয়ে তাকে না পেয়ে মোবাইলে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। জফিয়ালের বাবা গোলাম শহীদ বলেন, ‘বৃহস্পতিবার রাতে হারেনা আমাদের বাড়িতে ছিল। সকালে জফিয়ালের সঙ্গে কুড়িগ্রামের উদ্দেশে যান।’

নিহতের জা মরিয়ম খাতুন বলেন, ‘শুক্রবার সকালে হারেনা তার বাচ্চার নোংরা কাপড় বাড়িতে রেখে কুড়িগ্রামের উদ্দেশে যান। সঙ্গে ছিলেন উকিল বাবা জফিয়াল ও তার স্ত্রী। পরে বিকেলে বাড়িতে এসে ওই নোংরা কাপড় নিয়ে বাবার বাড়ির উদ্দেশে চলে যান হারেনা।’

রৌমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসক জীবন কুমার সাহা বলেন, গুরুতর আহত হারেনা নামের ওই নারীর গলার পেছন ও সামনে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। এখানে আনার পর অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে অন্যত্র স্থানান্তর করা হয়েছে। 

এই ব্যাপারে তদন্তকারী কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক লিটন মিয়া বলেন, এখন পর্যন্ত ঘটনার কোনো ক্লু খুঁজে পাওয়া যায়নি। 

রৌমারী থানার ওসি মোন্তাছের বিল্লাহ বলেন, ‘খবর পেয়ে লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে একটি ধারালো চাকু জব্দ করা হয়েছে। মামলার প্রস্তুতি চলছে। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে।’