সিলেটে সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হলেও দুর্গত এলাকায় মানুষের দুর্ভোগ বাড়ছে। নগরীর উপদ্রুত সিংহভাগ বাসাবাড়ির পানি নেমে গেলেও ময়লা-আবর্জনা, পঁচা দুর্গন্ধে সবার নাভিশ্বাস অবস্থা। এক সপ্তাহ ধরে পানিতে নিমজ্জিত বাসাবাড়ির অনেক আসবাবপত্র নষ্ট হয়েছে। উপজেলা পর্যায়ে অনেক এলাকা এখনও প্লাবিত রয়েছে। সুরমা নদীর পানি কমার প্রবণতা অব্যাহত থাকলেও কানাইঘাট পয়েন্টে ৪ সেন্টিমিটার বেড়েছে। সবকটি পয়েন্টে বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে সুরমা।

অন্যদিকে কুশিয়ারা নদীর পানি বাড়ায় জেলার ফেঞ্চুগঞ্জ ও বালাগঞ্জ উপজেলায় নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। তবে সিলেটে পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী নিলয় পাশা বলছেন, বন্যা পরিস্থিতির আর খুব একটা অবনতি হওয়ার আশঙ্কা নেই। ৪-৫ দিনের মধ্যে বেশিরভাগ এলাকা থেকেই পানি নেমে যাবে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানায়, রোববার সকাল ৯টায় সুরমা নদীর পানি কানাইঘাট পয়েন্টে বিপৎসীমার ৮৪ সেন্টিমিটার ও সিলেট নগরী পয়েন্টে ১২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। একই সময়ে কুশিয়ারা নদীর পানি জকিগঞ্জের অমলসিদ পয়েন্টে বিপৎসীমার ১৩২ সেন্টিমিটার ও বিয়ানীবাজারের শেওলা পয়েন্টে ৪৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

চলতি বন্যায় জেলায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন কৃষি ও মৎস্য চাষের সঙ্গে সম্পৃক্ত মানুষ। আকষ্মিক বন্যায় তলিয়ে গেছে আউশ ধানের বিপুল বীজতলা। সিলেটের ১১টি উপজেলায় মোট ১৮ হাজার ৭৪৯টি পুকুর, দিঘী, হ্যাচারি ও মাছের খামার তলিয়ে গেছে। এতে ২ কোটি ১৩ লাখ মাছের পোনা এবং ২ হাজার ৩০৫ টন মাছ বন্যার পানিতে ভেসে গেছে। এতে মাছচাষিদের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এছাড়াও বন্যায় অবকাঠামোগত ক্ষতি হয়েছে। সিলেট জেলার ১৫ হাজার ১৬৩ জন খামার মালিকের ২ হাজার ১৭৩ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন সিলেট জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. আবুল কালাম আজাদ।

বন্যায় পানিবাহিত রোগের প্রকোপ বেড়েছে বলে জানিয়েছেন সিলেটের সিভিল সার্জন ডা. এসএম শাহরিয়ার। তিনি বলেন, ইতিমধ্যে শতাধিক লোক ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার তথ্য আমরা পেয়েছি। চর্মরোগও বাড়ছে। পানি কমলে রোগবালাই আরও বাড়তে পারে আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি বলেন, পানিবাহিত রোগ যাতে ছড়িয়ে না পড়ে এ জন্য আমরা এরইমধ্যে ১৪০ টি মেডিকেল টিম গঠন করেছি। তারা বিভিন্ন উপজেলায় বন্যার্তদের সেবায় কাজ করছে।

এদিকে শনিবার কোম্পানিগঞ্জে ত্রাণ নিয়ে উপদ্রুত মানুষ ও পুলিশ-প্রশাসনের মারামারি হলেও ত্রাণের কোন সংকট নেই বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক মো. মজিবর রহমান। তিনি বলেন, শনিবার পর্যন্ত বন্যার্তদের মাঝে ৩২৫ মেট্রিক টন চাল, নগদ ১৫ লাখ টাকা ও সাড়ে ৫ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, আমাদের কাছে পর্যাপ্ত ত্রাণ আছে। পর্যায়ক্রমে সবাইকে ত্রাণ দেওয়া হবে।