ত্যাগী, দক্ষ, পরীক্ষিত নেতাকর্মীদের বাদ দিয়ে জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার রায়কালী ও গোপীনাথপুর ইউনিয়ন বিএনপির পকেট কমিটি গঠনের প্রতিবাদ এবং তা বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা।

তারা ওই পকেট কমিটি গঠনের মূল নায়ক হিসেবে কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক (রাজশাহী বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত) ওবায়দুর রহমান চন্দন ও আক্কেলপুর থানা কমিটির আহ্বায়ক জামসেদ আলমকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছেন।

অন্যদিকে থানা পর্যায়ের নেতার কুশপুত্তলিকা দাহ করেছেন। রোববার সকালে রায়কালী স্কুলের সামনে এবং গোপীনাথপুর বাজারে এসব কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

জানা গেছে, নেকাকর্মীরা রায়কালী স্কুলের সামনে এবং গোপীনাথপুর বাজার থেকে পৃথক বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। পরে রায়কালী গোপীনাথপুর বাজারে তারা বিক্ষোভ-সমাবেশ করেন। শেষে তারা সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন রায়কালী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি মতিউর রহমান ও গোপীনাথপুর সাবেক আহ্বায়ক হুমায়ন কবির রানা। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।

লিখিত বক্তব্যে রায়কালীর মতিউর রহমান ও গোপীনাথপুরের মাহবুব আলম বলেন, রায়কালী ও গোপিনাথপুর ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি গঠন নিয়ে যে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, তা কেন্দ্রীয় বিএনপি ও দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই। গত ১৮ মে রায়কালী ও গোপীনাথপুর ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে।

তাতে দেখা যায়, বিগত দিনে মামলা হামলার স্বীকার, ত্যাগী, দক্ষ ও রাজপথের পরীক্ষিত নেতাকর্মীদের বাদ দিয়ে কমিটি গঠন করা হয়েছে। আক্কেলপুর থানা আহ্বায়ক কমিটি গঠনের পর থেকে আহ্বায়ক জামসেদ আলমকে নিয়ে চরম বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। তিনি আক্কেলপুরে স্থায়ীভাবে বসবাস করেন না। তিনি আক্কেলপুরে কোনো সভা বা মিটিং মিছিল করতে পারেন না।

হঠাৎ করে জামসেদ আলম ও বিএনপি নেতা কামরুজ্জামান জয়পুরহাটে বসে জেলা কমিটির আহ্বায়ক ও যুগ্ম আহ্বায়কের হস্তক্ষেপে আমাদের দুটি ইউনিয়নের পকেট আহ্বায়ক কমিটি গঠন করেছেন। সে কারণে নেতাকর্মীদের মাঝে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। আমরা এই পকেট কমিটি প্রত্যাখ্যান ও বাতিলের জোর দাবি করছি।

আক্কেলপুর থানা বিএনপির আহ্বায়ক জামসেদ আলী বলেন, রায়কালী ও গোপীনাথপুর ইউনিয়ন বিএনপির তিনজন করে সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি প্রকাশ করা হয়েছে। এতে যারা স্থান পেয়েছেন তাঁরা বহুদিন ধরে ওই দুটি ইউনিয়নের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছে। আমরা তাদেরকেই কমিটিতে স্থান দিয়েছি। আমাদের বিরুদ্ধে তোলা অভিযোগ সঠিক না।

কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক (রাজশাহী বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত) ওবায়দুর রহমান চন্দন বলেন, ১৬০ থেকে ১৬২টি থানা-পৌরসভার আহ্বায়ক কমিটি রয়েছে। আমি ওই কমিটির বিষয়ে জানি না। এটি জেলা কমিটি বলতে পারবে।

জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুদ রানা প্রধান বলেন, জেলায় ৩২টি ইউনিয়নে নেতাকর্মীদের মতামতের ভিত্তিতে আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রতিবাদকারীরা দলকে বিতর্কিত করছেন। তাঁরা দলের ভালো চান না। বিশেষ একটা পক্ষ তাঁদের দিয়ে এসব করাচ্ছেন।