চাঁদাবাজি-সন্ত্রাসসহ নানা অভিযোগ তুলে সাভারের আশুলিয়ায় এক যুবলীগ নেতার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেছে এলাকাবাসী। রোববার দুপুরে উপজেলার শিমুলিয়া ইউনিয়নের রণস্থল বাজারে মানববন্ধন, বিক্ষোভ ও ঝাড়ূমিছিল হয়। এ সময় শিমুলিয়া ইউনিয়ন যুবলীগ সভাপতি আমির হোসেন জয়ের হাত থেকে নিস্তার দাবি করেন বক্তারা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি হওয়ার পর আমির হোসেনের পরিবার এলাকায় ত্রাসের রাজ্য কায়েমের চেষ্টা করছে। এলাকায় কোনো বাড়ি করতে হলে তার লোকজনকে চাঁদা দিতে হয়। এমনকি বিয়েবাড়ি থেকেও তারা চাঁদা আদায় করে। এ ছাড়া অটোরিকশাচালকদের কাছ থেকে দিন ও মাস হিসেবে চাঁদা তোলে জয়ের লোকজন। সম্প্রতি তার বাহিনী এলাকাবাসীর ওপর হামলা চালায়।

বক্তারা বলেন, 'আমির বাহিনী'র অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে সবাই আজ পথে নেমেছে। এলাকায় জমি চাষ করতে হলেও তাঁদের ট্রাক্টর নিতে হয়। বাড়ি তৈরি করতে হলে জয়ের চাচার রড-সিমেন্টের দোকান থেকে সামগ্রী না নিলেই অত্যাচার চালায়। সালিশ থেকেও টাকা হাতিয়ে নেয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক তরুণী বলেন, এলাকার বিয়েবাড়ি থেকে জমিজমা-সংক্রান্ত সব বিষয়ে জয় ও তার লোকজনকে চাঁদা দিতে হয়। প্রতি অটোরিকশা থেকে ৫০০ টাকা হারে চাঁদা নেয় তারা। না দিলে চলতে দেয় না, চালকদের মারধর করে। কেউ থানায় অভিযোগ দিতে গেলে উল্টো প্রভাব খাটিয়ে তাদের নামেই মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হয়।

শিমুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আওয়ামী লীগের নাম ভাঙিয়ে এলাকায় চাঁদাবাজি করে আমির হোসেন জয়। তার নামে তৈরি হয়ে 'জয় গ্রুপ'। এই সন্ত্রাসী বাহিনীর হামলা-মামলায় এলাকার মানুষ অতিষ্ঠ।

দীর্ঘদিন ধরে ওই ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্বে আছেন মো. আব্দুল্লাহ। এরপরও হয়রানি থেকে রেহাই মেলেনি তাঁর। তিনি বলেন, 'যুবলীগ নেতা জয়ের অত্যাচারে আমরা অতিষ্ঠ। তার চাঁদাবাজি ও মারধরের আতঙ্কে আছি সবাই। আমার ছেলের নামেও মামলা দিয়ে হয়রানি করছে।'

সূত্র জানায়, আগে ইউনিয়ন ছাত্রদলের রাজনীতিতে জড়িত ছিলেন জয়। সম্প্রতি কিছু অসাধু নেতাকে হাত করে যুবলীগের পদ বাগিয়ে নিয়েছেন তিনি।

অভিযুক্ত আমির হোসেন জয় বলেন, 'তিন মাস আগে রণস্থল এলাকায় আমার মা-বাবাকে মেরে আহত করা হয়। সেই মামলায় অভিযুক্ত চারজন হাজতে আছে।' ওই আসামিদের পরিবারের লোকজন ভাড়াটে লোক দিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে মানববন্ধন করেছে বলে দাবি করেন।

আশুলিয়া থানা যুবলীগের আহ্বায়ক কবির হোসেন সরকার বলেন, অত্যাচারী যেই হোক না কেন- অন্যায় করলে শাস্তি পেতে হবে। জয়ের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে দলীয়ভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।