ইউপি নির্বাচনের সময় ভোটকেন্দ্রে আনসার ও ভিডিপি (খণ্ডকালীন) সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পেতে ঘুষ দিতে হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ধারদেনা করে টাকা দিয়ে দায়িত্ব পালনের পাঁচ মাস চলে গেলেও সম্মানী ভাতা পায়নি কেউ। এমন ঘটনা ঘটেছে মদন উপজেলায়।

ভুক্তভোগীরা জানায়, দায়িত্ব পালন করা প্রত্যেক আনসার সদস্যের কাছ থেকে হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে এক থেকে দেড় হাজার করে টাকা। টাকা নিয়ে অন্যজনের নাম ব্যবহার করে নির্বাচনী দায়িত্বে রাখা হয়েছিল কিশোরদের। নেত্রকোনার ১০টি উপজেলায় কয়েক ধাপে অনুষ্ঠিত ইউপি নির্বাচনে আনসার সদস্যদের কাছ থেকে প্রায় ২৫ লাখ টাকা ঘুষ নিয়েছেন আনসার দলনেতারা।

উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২২ সালের ৫ জানুয়ারি পঞ্চম ধাপে মদনে ইউপি নির্বাচন হয়। কেন্দ্রের আইনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য ভোটের আগে ও পরে ৪ দিন দায়িত্ব পালন করেন আনসার সদস্যরা। প্রতিটি কেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করেন ১৭ জন। এর মধ্যে একজন প্লাটুন কমান্ডার (পিসি), একজন সহকারী প্লাটুন কমান্ডার (এপিসি), বাকি ১৫ জন সদস্য। প্রত্যেক পিসি ও এপিসি প্রতিদিন দায়িত্ব পালনের জন্য ভাতা পাবেন ৫২৫ টাকা। আর প্রতিদিন ৪৭৫ টাকা করে পাবেন সদস্যরা। এর সঙ্গে খাবার ও যাতায়াতসহ শ্রেণিভেদে ৩ হাজার থেকে ৩ হাজার ৩০০ টাকা ভাতা পান প্রত্যেক সদস্য। মদন উপজেলার ৭২টি কেন্দ্রে মোট এক হাজার ২২৮ জন আনসার সদস্য নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করেন।

আনসার সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী পৌর শহরের বাসিন্দা ফজলু মিয়া বলেন, ‘নির্বাচনী দায়িত্বে আনসার সদস্য নেওয়ার খবর পেয়ে মদন আনসার অফিসে যাই। অফিসের লোকজন বলেছে, টাকা না দিলে দায়িত্ব দেওয়া হবে না। পরে ঋণ করে দেড় হাজার টাকা ঘুষ দিয়ে দায়িত্ব নিয়েছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত ভাতার টাকা পেলাম না।’ তার মতো দায়িত্ব নিতে টাকা দিয়েছেন বলে জানান আনসার সদস্য আনোয়ার হোসেন, মহব্বত, হাবিনুর, সাজ্জাত।

জানতে চাইলে আনসার দলনেতা ছোটন মিয়া বলেন, ‘এ বিষয়ে পরে কথা বলব। এখন ব্যস্ত আছি।’ তবে টাকা নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে দলনেতা সোনিয়া বলেন, ‘আপনাকে অনুরোধ করছি ভাই। কে বলেছে আমি টাকা নিয়েছি, তার নামটা বলেন। এটি নিয়ে নিউজ করার দরকার নেই।’

উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা রীমি ফেরদৌসীর দাবি, নির্বাচনের পর যোগ দিয়েছেন তিনি। কয়েকদিন ধরে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা চলছে। অফিসের কেউ জড়িত থাকার প্রমাণ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।