নানা উৎস ও উদ্দীপনার মধ্যে শেষ হলো 'বাংলাদেশ স্টকহোম জুনিয়র ওয়াটার প্রাইজ-২০২২'-এর অষ্টম আসরের চূড়ান্ত পর্ব। গত ১৩ মে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) আইটিএন সেমিনার রুমে এই আয়োজন হয়েছে। এবারের আসরের মূল প্রতিপাদ্য 'আজকের শিক্ষার্থীদের অনুপ্রেরণা প্রদান, আগামীর পানির উন্নয়ন সাধন'; যা পানির উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের সঙ্গে বর্তমান তারুণ্যের সংযোগ ঘটানোর গুরুত্বকে তুলে ধরে। এবার সমাপনী পর্বের জন্য পুরো দেশ থেকে ১০টি দল চূড়ান্তভাবে ফাইনাল পিচিং রাউন্ডের জন্য বাছাই করা হয়। প্রতিযোগিতাটির বিচারকাজ ও পর্যালোচনার লক্ষ্যে একটি জুরি বোর্ড গঠন করা হয়। এই প্যানেলে সদস্য ছিলেন ড. তানভীর আহমেদ, অধ্যাপক, পুরকৌশল বিভাগ, বুয়েট; ড. ফেরদৌস সারওয়ার, অধ্যাপক, শিল্প ও উৎপাদন প্রকৌশল, বুয়েট; ড. মহিদুস সামাদ খান, এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর, বেক্সিমকো হেলথ অ্যান্ড পিপিই, সহযোগী অধ্যাপক, রসায়ন প্রকৌশল, বুয়েট; মো. তাহমিদুল ইসলাম, কারিগরি উপদেষ্টা, ওয়াশ, ওয়াটারএইড বাংলাদেশ; সুমন কান্তি নাথ, প্রকল্প কর্মকর্তা, এজেন্স ফ্র্যাঞ্চাইজ দ্য ডেভেলপমেন্ট (এএফডি); নার্গিস আক্তার, প্রকল্প কর্মকর্তা, ওয়াশ, ইউনিসেফ বাংলাদেশ এবং মার্টিনেজ ব্যাকট্রম, ফার্স্ট সেক্রেটারি, ঢাকায় সুইডিশ দূতাবাস, বাংলাদেশ। ফাইনাল রাউন্ডে মনোনীত প্রতিযোগীরা ভিজ্যুয়াল পোস্টার উপস্থাপন করে এবং পিচিং রাউন্ডে অংশ নেয়। রাউন্ডটি অনবদ্য ছিল এবং সেই সঙ্গে তাদের উপস্থাপনা ছিল স্বতঃস্ম্ফূর্ত। জুরি সদস্য ড. মহিদুস সামাদ খান প্রতিযোগীদের সম্পর্কে বক্তব্য দেনন। যত বেশি সময় পার হচ্ছে, অংশগ্রহণকারীরা ততই শক্তিশালী আইডিয়া উপস্থাপন করছে। বিচারকদের জন্য কে ভালো করছে না, তা নির্ধারণ করাই একটি চ্যালেঞ্জ ছিল।
সর্বোপরি বর্তমান জুরি প্যানেল অনুষ্ঠানটি অত্যন্ত সাধুবাদ জানায় এবং সারাদেশ থেকে অংশগ্রহণকারীদের মেধা ও মননকে স্বাগত জানান। ঢাকায় সুইডেন দূতাবাসের অ্যাম্বাসাডর মার্টিনেজ ব্যাকট্রম ইভেন্ট সম্পর্কে বলেন, অংশগ্রহণকারীদের চিন্তাভাবনা প্রশংসনীয়। তাদের এই আইডিয়াগুলো সত্যিই যুগোপযোগী। যদি সম্ভব হতো তবে আমরা প্রত্যেক অংশগ্রহণকারীকে সুইডেনে আমন্ত্রণ জানাতে পারতাম। উপস্থাপনকৃত আইডিয়াগুলোর মধ্যে কোনোটিই কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। গত বছর ডিসেম্বরে প্রতিযোগিতাটির অষ্টম আসরের উদ্বোধনের পর থেকেই দেশজুড়ে বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের ব্যাপক সাড়া পাওয়া যায়। স্ট্ক্রিনিং শেষে প্রাথমিক যাচাই-বাছাইয়ের পর ২১টি প্রজেক্ট পেপার থেকে পরে ১০টি প্রজেক্ট পেপার চূড়ান্ত পর্যায়ের জন্য মনোনয়ন লাভ করে। উল্লেখ্য, প্রতিযোগিতায় পানি-সংক্রান্ত সমস্যায় একজন প্রতিযোগীর প্রস্তাবিত সম্ভাব্য টেকসই, ব্যতিক্রমী, আর্থিকভাবে লাভজনক সমাধানের আঞ্চলিক, জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সম্ভাব্য গুরুত্বের কথা বিবেচনা করে বিজয়ী নির্ধারিত হয়। ১৫-২০ বছর বয়সী তরুণ প্রজন্মের চিন্তা-চেতনার প্রকাশ ঘটানো এবং বাস্তবিক অর্থে এর প্রতিফলন ঘটানোই প্রতিযোগিতার মূল উদ্দেশ্য। আলোচ্য প্রতিযোগিতার আঞ্চলিক পর্বের বিজয়ীরা বাংলাদেশসহ ৪০টি দেশের প্রতিনিধি হিসেবে আগস্টে সুইডেনের স্টকহোমে অনুষ্ঠিতব্য 'স্টকহোম জুনিয়র ওয়াটার প্রাইজে' অংশগ্রহণের সুযোগ পাবে।
চূড়ান্ত প্রতিযোগিতাটি সম্মানিত বিচারকমণ্ডলী, অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থী, অভিভাবকবৃন্দ, ভলান্টিয়ার ও দর্শকদের স্বতঃস্ম্ফূর্ত অংশগ্রহণে সফলভাবে সমাপ্ত হয়। 'হাউস অব ভলান্টিয়ারস বাংলাদেশ' ওই প্রতিযোগিতায় 'এসজেডব্লিউপি' মনোনীত মূল সংগঠক হিসেবে এবং ওয়াটারএইড বাংলাদেশ সহযোগী সংগঠক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে।