ইরানের ক্ষমতাধর রেভ্যুলেশনারি গার্ডের একজন কর্নেলকে আততায়ীরা গুলি করে হত্যা করেছে। তার নাম সাইয়াদ খোদাই। তাকে দুইজন বন্দুকধারী মোটরসাইকেলে এসে পাঁচটি গুলি করে। তিনি সে সময় তেহরানে তার বাড়ির সামনে গাড়ির মধ্যে ছিলেন। খবর- বিবিসির। 

এখন পর্যন্ত এই ঘটনার কেউ দায় স্বীকার করেনি। বন্দুকধারীদের ধরতে অভিযান চলমান রয়েছে।

বিবিসির মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক সম্পাদক সেবাস্টিয়ান উশার বলেন, ২০২০ সালে একজন শীর্ষস্থানীয় পরমাণু বিজ্ঞানীকে হত্যা করার পর ইরানে এই প্রথম বড় কোনো নিরাপত্তাভঙ্গের ঘটনা ঘটল।

ঘটনাস্থলের ছবিতে দেখা যাচ্ছে, রক্তাক্ত এক ব্যক্তি গাড়ির সিটে বসা অবস্থায় মুখ থুবড়ে পড়ে আছেন। তার শরীরে তখনো গাড়ির সিটবেল্ট বাঁধা।

কর্নেল খোদাই ছিলেন এলিট কুদস বাহিনীর একজন জ্যেষ্ঠ সদস্য। এটি রেভ্যুলেশনারি গার্ডের একটা অঙ্গপ্রতিষ্ঠান, যারা বিদেশে তাদের অভিযান পরিচালনা করে। এই বাহিনী সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে সমর্থন করে এবং মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে নানা হামলার পেছনে বাহিনীটি দায়ী, এমন অভিযোগ করে থাকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সায়িদ খতিবজাদেহ বলেছেন, কর্নেল ইরানের ঘোরতর শত্রুদের হাতে নিহত হয়েছেন। তার ভাষায়, এরা আন্তর্জাতিক মদদপুষ্ট সন্ত্রাসী গোষ্ঠী। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং তার মিত্রদের ইঙ্গিত করে তিনি এসব বলছেন।

তিনি আরও বলেন, যেসব দেশ দাবি করে তারা সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াই করছে তারা দুঃখজনকভাবে চুপ রয়েছে এবং সমর্থন করছে। এর আগে এই ধরনের উচ্চ পর্যায়ের কোনো হত্যাকাণ্ড হলে ইরানের কর্মকর্তারা ইসরায়েলকে দায়ী করেছে।

এই হত্যার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর ইরানের সরকারি গণমাধ্যম বলছে, রেভ্যুলেশনারি গার্ড ইসরায়েলের গুপ্তচরদের একটা নেটওয়ার্কের সদস্যদের গ্রেফতার করেছে। এই বিষয়ে ইসরায়েলের কাছ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে কর্নেল খোদাই হচ্ছেন কুদস ফোর্সের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তা যাকে হত্যা করা হলো। ২০২০ সালে সালে ইরানের সবচেয়ে ক্ষমতাধর মিলিটারি কমান্ডার জেনারেল কাসেম সোলাইমানি ইরাকে এক মার্কিন বিমান হামলায় নিহত হন। তিনি ইরানের মিলিটারি অপারেশনকে মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে দিয়েছিলেন একজন কুদস ফোর্সের প্রধান হিসেব। তার মৃত্যু ওয়াশিংটন এবং তেহরানের মধ্যে ব্যাপক উত্তেজনা তৈরি করে। ওই বছরেই পরমাণু বিজ্ঞানী মোহসেন ফাখরিজাদেহকে তেহরানে গুলি করে মারা হয়। ফাখরিজাদেহ এত গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ছিলেন যে, সব সময় কয়েকজন দেহরক্ষী নিয়ে চলতেন। তিনি ইরানের পরমাণু কর্মসূচিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতেন। যদিও ইরানের সরকার দাবি করে তাদের পরমাণু কর্মসূচি সম্পূর্ণভাবে শান্তিপূর্ণ কাজে ব্যবহার করার জন্য। ইরান অভিযোগ করে ইসরায়েল একটা রিমোট কন্ট্রোল অস্ত্র দিয়ে তাকে হত্যা করে।