চট্টগ্রামে দুর্নীতির মামলায় আত্মসমর্পণের পর সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাশের স্ত্রী চুমকি কারনকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।

সোমবার দুপুরে চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিশেষ বিচারক মুন্সী আবদুল মজিদের আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন চুমকি। কিন্তু আদালত তাকে জামিন না দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। 

সোমবার প্রদীপ ও চুমকির বিরুদ্ধে মামলার তদন্তকর্মকর্তা ও বাদী আদালতে সাক্ষ্য দেন। এর মধ্য দিয়ে প্রদীপ দম্পত্তির বিরুদ্ধে দুর্নীতি মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়।

প্রসঙ্গত, মেজর (অব.) সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান হত্যা মামলায় ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি ওসি প্রদীপ।

দুদক পিপি অ্যাডভোকেট মাহমুদুল হক বলেন, প্রদীপ ও চুমকির বিরুদ্ধে দুর্নীতি মামলা দায়েরের পর থেকেই চুমকি কারন পলাতক ছিলেন। দীর্ঘদিন পর আদালতে আত্মসমর্পণ করলে উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। চুমকির পক্ষ থেকে মামলার সব সাক্ষীকে জেরা করার জন্য রিকল চাওয়া হলে তা খারিজ করে দেন আদালত।

প্রদীপের আইনজীবী অ্যাডভোকেট রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, ‘রিকল খারিজ করার আদেশের বিরুদ্ধে আমরা উচ্চ আদালতে যাবো। আমরা ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হয়েছি।’

চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়, চট্টগ্রাম নগরীর পাথরঘাটায় ছয়তলা বাড়ি, ষোলশহরে বাড়ি, ৪৫ ভরি সোনা, একটি কার ও মাইক্রোবাস, ব্যাংক হিসাব এবং কক্সবাজারের একটি ফ্ল্যাটের মালিক প্রদীপের স্ত্রী চুমকি কারন। চার কোটি ৮০ লাখ ৬৪ হাজার ৬৫১ টাকার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের বিপরীতে বৈধ ও গ্রহণযোগ্য আয় পাওয়া যায় দুই কোটি ৪৪ লাখ ৬৬ হাজার ২৩৪ টাকার। তার দুই কোটি ৩৫ লাখ ৯৮ হাজার ৪১৭ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের সত্যতা পায় দুদক। এ ছাড়া চুমকি নিজেকে মৎস্যব্যবসায়ী দাবি করলেও এর কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। প্রদীপের ঘুষ, দুর্নীতির টাকায় তার স্ত্রী কোটিপতি হয়েছেন বলে প্রমাণ পাওয়া যায়। পরে তার বিরুদ্ধে তিন কোটি ৯৫ লাখ পাঁচ হাজার ৬৩৫ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভুত সম্পদ অর্জন, সম্পদের তথ্যগোপন ও মানি লন্ডারিংয়ের অভিযুক্ত করা হয়।

এর আগে ২০২১ সালের ১৫ ডিসেম্বর প্রদীপ কুমার দাশ ও তার স্ত্রী চুমকি কারনের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলায় চার্জ গঠন করেন আদালত। ২৬ জুলাই দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয় চট্টগ্রাম-২ এর সহকারী পরিচালক মো. রিয়াজ উদ্দিন আদালতে চার্জশিট জমা দেন। ১ সেপ্টেম্বর চার্জশিটের ওপর শুনানি হয়। 

চলতি বছরের ২৯ জুন দুপুরে চট্টগ্রাম সিনিয়র স্পেশাল জজ ও মহানগর দায়রা জজ শেখ আশফাকুর রহমানের আদালত প্রদীপ কুমার দাশের অবৈধ সম্পদ দেখভালের দায়িত্ব কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসককে দেন। 

গত ২০ সেপ্টেম্বর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও দুদকের সহকারী পরিচালক মো. রিয়াজ উদ্দিনের করা আবেদনের শুনানি শেষে মহানগর সিনিয়র স্পেশাল দায়রা জজ শেখ আশফাকুর রহমানের আদালত তাদের অবৈধ সম্পদ ক্রোকের নির্দেশ দেন। 

২০২০ সালের ২৩ আগস্ট দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় চট্টগ্রাম-২-এর তৎকালীন সহকারী পরিচালক মো. রিয়াজ উদ্দিন বাদী হয়ে প্রদীপের অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা করেন।