কর্ণফুলী নদীর প্রস্থে প্রায় ৫০০ মিটার এলাকা গত ২২ বছরে বিলীন হয়ে গেছে। নদীর উত্তর পাশে চর সৃষ্টি এবং অন্য পাশে পানির স্রোতে মাটি সরে গিয়ে শাহ আমানত সেতুর দক্ষিণ পাশ ধসে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে নদীতে প্রতিনিয়ত যে হারে পলি জমছে এবং চট্টগ্রাম নগরের আবর্জনা পড়ছে, তা ঠেকানো না গেলে এক সময় কর্ণফুলী মরা নদীতে পরিণত হতে পারে।
গতকাল রোববার দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে 'কর্ণফুলী নদীর তলদেশের গভীরতা ও দখল জরিপ ২০২২' প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। কর্ণফুলী নদীর তলদেশের বাস্তব চিত্র ও দখল নিয়ে জানতে গত ১ মার্চ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত জরিপটি চালানো হয়।
কর্ণফুলী নদী ও খাল রক্ষা আন্দোলনের সহযোগিতায় জরিপটি পরিচালনা করেন মেরিন ফিশারিজ একাডেমির খণ্ডকালীন শিক্ষক নোমান আহমদ সিদ্দিকীসহ তিনজনের একটি বিশেষজ্ঞ দল। দলের অন্য দুই সদস্য হলেন- চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক এবং রোড কমিউনিকেশন বিশেষজ্ঞ ড. স্বপন কুমার পালিত ও কর্ণফুলী বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. ইদ্রিস আলী।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ২০০০ সালে কর্ণফুলী নদীর প্রস্থ ছিল ৯৩০.৩১ মিটার। বর্তমানে তা দাঁড়িয়েছে ৪১০ মিটারে। গত ২২ বছরে চর জেগে বিলীন হয়ে গেছে নদীর প্রস্থের প্রায় ৫০০ মিটার এলাকা। জরিপে ম্যানুয়াল ও ফ্যাদোমিটারের মাধ্যমে ভাটার সময় নদীর তলদেশের গভীরতা পরিমাপ করে দেখা যায়, কর্ণফুলী নদীর স্বাভাবিক গতিপ্রবাহ চর পাথরঘাটা ব্রিজঘাট এলাকা ২৫ ফুট, মাঝ নদী বরাবর ৩৮ ফুট এবং উত্তর পাশে ফিরিঙ্গি বাজার ব্রিজঘাট এলাকায় ২৪ ফুট। এই এলাকাটি নিয়মিত ড্রেজিং করায় নদীর স্বাভাবিক গতিপ্রবাহ রয়েছে। এর ঠিক ৫০০ মিটার উজানে চাক্তাই খালের মোহনায় উত্তর পাশে কর্ণফুলীর প্রকৃত সীমানা থেকে ৩০০ ফুট নদীর অংশে গভীরতা মাত্র ২ ফুট, মাঝনদী বরাবর ১৩.৬ ফুট এবং দক্ষিণ পাশে তীরের কাছাকাছি গভীরতা ৪৮ ফুট। আবার নদীর মাঝ বরাবর চর তৈরি হয়েছে। এতে পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় সেতুর অন্যদিকে প্রচণ্ড গতিতে পানি বয়ে যায়। যার কারণে সেতুর ৪ ও ৫ নম্বর পিলারে নদীর স্বাভাবিক গভীরতা ২৮ ফুট থাকার কথা থাকলেও ৭৮.৬ ফুট পাওয়া গেছে। এতে এই অংশে সেতু দেবে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে।