বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় পাঁচটি জেলায় ভয়াবহ বন্যার প্রভাবে ১৫ লাখের বেশি শিশুর নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য, পুষ্টি এবং শিক্ষা ঝুঁকিতে রয়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক তহবিল ইউনিসেফ।

সোমবার ইউনিসেফ বাংলাদেশ সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানায়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশের পাঁচ জেলা- সিলেট, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ, নেত্রকোনা ও মৌলভীবাজারের চল্লিশ লাখেরও বেশি মানুষ জীবন বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।  কৃষিজমি, বিদ্যুৎকেন্দ্র ও স্কুলসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো বন্যায় তলিয়ে যাওয়ায় সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার বাসিন্দারা ‘সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে’ রয়েছেন বলে উল্লেখ করা হয় বিজ্ঞপ্তিতে।

ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলোতে ইতিমধ্যেই ডায়রিয়া, শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ ও চর্মরোগে আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। অন্তত তিনজন শিশু বজ্রপাতে প্রাণ হারিয়েছে। 

জেলাগুলোতে বন্যার প্রভাবে শতাধিক স্কুল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, যার ফলে শিশুদের পড়াশোনা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিগত দুই বছরে ১৮ মাস মহামারিতে স্কুল বন্ধ থাকার পর, আবারও এ ধরনের পরিস্থিতি শিশুদের শিক্ষা থেকে বঞ্চিত করছে।

বাংলাদেশে ইউনিসেফের প্রতিনিধি মি. শেলডন ইয়েট বলেন, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের জন্য আমরা সমবেদনা প্রকাশ করছি। অন্য যেকোনো জরুরি পরিস্থিতির মতো শিশুরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। এ শিশুদের সুরক্ষা ও তাদের তাৎক্ষণিক চাহিদাগুলো নিশ্চিত করতে ইউনিসেফ সরকার এবং অংশীদারদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

ইউনিসেফ বিশুদ্ধ পানি, হাইজিন উপকরণ, থেরাপিউটিক দুধ ও শিক্ষা উপকরণ সরবরাহের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত কমিউনিটিগুলোর মাঝে পানিতে ডুবে যাওয়া ও জরুরি প্রস্তুতির বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে সহায়তা দিচ্ছে। 

শিশুদের সুরক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য জরুরি পরিস্থিতি মোকাবেলায় সমাজকর্মীরা যাতে প্রস্তুত থাকে তা নিশ্চিত করার জন্য ইউনিসেফ সমাজসেবা অধিদপ্তরের (ডিএসএস) সঙ্গেও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে।