সকালের হঠাৎ কালবৈশাখীর পর রৌদ্রোজ্জ্বল সারা বেলা। সংক্ষেপে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে এটাই ঢাকা টেস্টে বাংলাদেশের প্রথম দিন। ব্যাট করতে নেমে সকালেই ২৪ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে বিপর্যয়ে পড়েছিল দল। সেখান থেকে মুশফিকুর রহিম ও লিটন দাস রেকর্ড জুটি গড়েছেন। ২৭৭ রান তুলে স্বস্তিতে দিন শেষ করেছেন। 

শুরুর উইকেট ব্যাটিং সহায়ক হবে। রান তোলা যাবে জানিয়ে টস জিতে ব্যাটিং নেন অধিনায়ক মুমিনুল হক। কিন্তু প্রথম ওভারেই কোন রান না করে প্লেড অন হয়ে ফিরে যান মাহমুদুল জয়। ওই ধাক্কাকে পাত্তা না দিয়ে শট খেলতে গিয়ে ক্যাচ দেন অভিজ্ঞ ওপেনার তামিম ইকবাল। রানের খাতা খোলা হয়নি তারও। 

লিটন দাসের সেঞ্চুরি উদযাপন। পাশে অভিনন্দন জানাচ্ছেন সঙ্গী মুশফিকুর রহিম। ছবি: এএফপি 

ওই বিপদ সামাল দিতে এসে আরও বিপদে দলকে ঠেলে দেন মুমিনুল হক ও নাজমুল শান্ত। অধিনায়ক ৯ বলের মধ্যে দুই চারে ৯ রান করে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন। এরপরই ফিরে যান নাজমুল শান্ত। তিনি করেন ৮ রান। ফুল লেন্থের ইন সুইং করা বলে শট খেলতে গিয়ে বোল্ড হন। বাঁ-হাতি তামিম-শান্ত-মুমিনুলরা সুবিধা করতে না পারার পরও উইকেটে পাঠানো হয় বাঁ-হাতি সাকিবকে। তিনি গোল্ডেন ডাক মারেন। 

এরপর জুটি গড়েন মিস্টার ডিপেন্ডেবল মুশফিকুর রহিম এবং টেস্টে দলের ক্রাইসিস ম্যান হয়ে ওঠা লিটন দাস। দিনের বাকি প্রায় ৮০ ওভার ব্যাটিং করেছেন তারা। দু’জন দারুণ দুই সেঞ্চুরি করেছেন। প্রথম দিন সকালে ফস্কে যাওয়া ম্যাচের লাগাম হাতে এনে দিয়েছেন। লিটন দাস ২২১ বলে ১৬ চার ও এক ছক্কায় ক্যারিয়ার সেরা ১৩৫ রান করে অপরাজিত আছেন। তৃতীয় টেস্ট সেঞ্চুরির স্বাদ পেয়েছেন। 

ব্যাক টু ব্যাক সেঞ্চুরি পেয়েছেন রান খরায় থাকা মুুশফিকুর। উদযাপনে খুশির ছাপ। ছবি: এএফপি

চট্টগ্রাম টেস্ট দিয়ে রান খরা কাটানো মুশফিকুর রহিম দিন শেষ করেছেন ১১৫ রান করে। উইকেট কামড়ে পড়ে ছিলেন তিনি। খেলেছেন ২৫২ বল। ক্যারিয়ারের নবম সেঞ্চুরি করার দিনে ১৩ চার মেরেছেন। তাদের জুটি থেকে দল পেয়েছে ২৫৩ রান। টেস্টে ষষ্ঠ উইকেটে যা বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রান। তারা দু’জন ১৫ বছর আগে কলম্বোয় করা আশরাফুল-মুশফিকের ১৯১ রানের রেকর্ড ভেঙেছেন। টেস্টে দেশের পঞ্চম সর্বোচ্চ জুটিও গড়েছেন। 

ঢাকা টেস্টের উইকেট স্পিন বোলিং সহায়ক হওয়ার ইঙ্গিত ছিল। শুরুতে ব্যাটিং সহায়ক হলেও পরে স্পিন ছো মারার কথা ছিল। তবে লঙ্কান তিন স্পিনার জয়াবিক্রমা, রামেশ মেন্ডিস কিংবা ধনাঞ্জয়া ডি সিলভা সুবিধা করতে পারেননি। শুরুতে ধাক্কা দেওয়ার কাজটা করেছিলেন পেসার কাসুন রাজিথা ও অসিথা ফার্নান্দো। রাজিথা চট্টগ্রাম টেস্টের মতো একই ট্রাপে ফেলে তিন উইকেট তুলে নেন।