পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পাবিপ্রবি) এক কর্মকর্তা বিয়ে নিয়ে টালবাহানা করায় তার প্রেমিকা ইডেন কলেজের ছাত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকে এসে আত্মহননের চেষ্টা করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ঘটনাটি সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের টক অব দ্যা ক্যাম্পাস হলেও দায়িত্বশীল কেউ মুখ খুলছেন না।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রোববার বিকেলে ওই তরুণী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সেকশন অফিসার মনোয়ারুল আলম তুষারের মধ্যে কথা কাটাকাটি শেষে এক পর্যায়ে তার সামনেই তরুণীটি বিষপান করলে সেখান থেকে উদ্ধার করে তাকে প্রথমে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে ওই তরুণী রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপালে চিকিৎসাধীন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান গেটের প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রোববার দুপুরের পরপরই ওই তরুণী পাবিপ্রবির প্রধান ফটকে আসেন। তারপর তার সঙ্গে তুষারের দেখা হয়। দীর্ঘ আলাপ আলোচনার এক পর্যায়ে মেয়েটি বিষ পান করে আত্মহত্যার চেষ্টা চালায়। এর পর তুষার ও তার সহকর্মীরা তাকে পাবনা জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে ভর্তি করেন। 

খবর পেয়ে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ছুটে আসেন ওই তরুণীর মা ও পরিবারের লোকজন। বিষয়টি ধামাচাপা দিতে সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর রোববার রাতেই ওই কলেজছাত্রীকে রাজশাহী নিয়ে যাওয়া হয়।

পাবিপ্রবি গেটের চা বিক্রেতা আব্দুর রহমান সমকালকে জানান, দুপুরের পরে হঠাৎ করেই তুষারের সঙ্গে এক তরুণীর তুমুল কথা কাটাকাটির শুরু হয়। এক পর্যায়ে ওই তরুণী ব্যাগ থেকে বের করে কিছু একটা পান করেন। অসুস্থ হয়ে পড়লে ওই তরুণীকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন কর্মকর্তার সহযোগিতায় তুষার হাসপাতালে নিয়ে যান।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পাবিপ্রবির সেকশন অফিসার মনোয়ারুল আলম তুষারের একাধিক প্রতিবেশী জানান, বিষ পান করা ওই তরুণী তুষারের প্রতিবেশী এবং তাদের মধ্যে দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। পারিবারিক ভাবে তাদের বিয়ের কথাও হয়েছিল। তুষার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এবং ওই তরুণী ইডেন কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন। সম্প্রতি পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে সেকশন অফিসার পদে নিয়োগ পান তুষার। সেখানে এক নারীর সঙ্গে তার ভালো সম্পর্ক গড়ে উঠায় এ নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরে ওই তরুণীর সঙ্গে তুষারের মনোমালিন্য চলছিল। 

এ বিষয়ে অভিযোগ পেয়ে বেড়া পৌরসভার কয়েকজন কাউন্সিলর তুষারের বাড়িতে গিয়ে সরজমিনে তদন্ত করেন।

বেড়া পৌরসভার মেয়র অ্যাডভোকেট আসিফ শামস রঞ্জন সমকালকে বলেন, বিষয়টি যেহেতু আমার এলাকার, সেহেতু খোঁজ খবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

এ ব্যাপারে পাবিপ্রবির সেকশন অফিসার মনোয়ার আলম তুষার সমকালকে বলেন, বিষয়টি পারিবারিক, তাই পারিবারিকভাবেই মীমাংসা করা হবে। 

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর হাসিবুর রহমান সমকালকে বলেন, যেহেতু বিষয়টি ক্যম্পাসের বাইরের, সেহেতু আমাদের কোনো করণীয় নেই। তবে কেউ অভিযোগ দিলে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।