পটুয়াখালীতে ছাত্রদল ও ছাত্রলীগের মধ্যে ধাওয়া ও পাল্টা-ধাওয়া এবং ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। এতে মেহেরীন আফরোজ নামে ৬ষ্ঠ শ্রেণীর এক পথচারী শিক্ষার্থী আহত হয়েছে। সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শহরের কলেজ রোড এলাকায় এ ঘটনাটি ঘটে।

এরপর পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মো. আল আমিন হওলাদারের বাসা থেকে তিনটি মোটরসাইকেল জব্দ করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, জেলা ছাত্রদলের একটি বিক্ষোভ মিছিল কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি) কার্যালয়ের সামনে পৌঁছালে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা বাধা দেয়। এ নিয়ে উভয়ের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া এবং ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

এ সময় ইটের আঘাতে সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ শ্রেণীর শিক্ষার্থী মেহেরীন আফরোজ আহত হয়। তাকে উদ্ধার করে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

পটুয়াখালী জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আল-আমিন হাওলাদার বলেন, বেগম খালেদা জিয়াকে কটুক্তি ও কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণের নামে মিথ্যা মামলার প্রতিবাদে একটি বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে দুই নম্বর বাঁধঘাট থেকে শুরু করে বিএডিসির কার্যালয়ের সামনে হয়ে সদর রোডের দিকে যাচ্ছিলাম। মিছিলটি সরকারি কলেজ অতিক্রমকালে ছাত্রলীগের কর্মীরা লাঠিসোটা নিয়ে হামলা চালায়। পরে তাদের সঙ্গে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া এবং ইট পাটকেল নিক্ষেপ হয়। পরে পুলিশ এসে আমাদের উপর লাঠিচার্জ করে এবং আমার বাসা থেকে আমার ও আমার ছোট ভাইয়ের তিনটি মোটরসাইকেল জব্দ করে থানায় নিয়ে যায়।

জেলা ছাত্রলীগের বিলুপ্ত কমিটির সহ-সভাপতি আশীষ কুমার হৃদয় বলেন, আমরা কোন হামলা করিনি। ছাত্রদলের কিছুসংখ্যক নেতাকর্মী প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য দিয়ে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করতে চেয়েছিল। আমরা ছাত্রলীগের কর্মীরা তা প্রতিহত করেছি। এ টুকুই হয়েছে, আর কিছু হয়নি।
এ ব্যাপারে পটুয়াখালী সদর থানার অফিসার ইনর্চাজ মো. মনিরুজ্জামান জানান, কাগজপত্র না থাকায় মোটরসাইকেল তিনটি জব্দ করা হয়েছে। এর আগে দুই পক্ষের মধ্যে সামান্য উত্তেজনা দেখা দিলে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে শহরের পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।