খুলনায় গ্রামের ১৭ দশমিক ১ শতাংশ মানুষ এখনও নিরক্ষর। বস্তিতে এ হার ২৩ দশমিক ৬ শতাংশ। আর কেবল নিজের নাম সই করতে পারেন ১৯ দশমিক ৫ শতাংশ মানুষ।

খুলনা সিটি করপোরেশনের দুটি ওয়ার্ডের দুটি বস্তি এবং বটিয়াঘাটা উপজেলার জলমা ইউনিয়নের ৪টি গ্রামে জরিপ চালিয়ে এই তথ্য প্রকাশ করেছে কোস্টাল ডেভেলপমেন্ট পার্টনারশিপ (সিডিপি) নামের একটি সংগঠন।

সোমবার খুলনা প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়। ব্রেড ফর দ্য ওয়ার্ল্ডের আর্থিক সহায়তায় স্ট্রেংদেনিং পিপলস অ্যাকশন অন ক্লাইমেট রিস্ক রিডাকশন অ্যান্ড এনার্জি এফিসিয়েন্সি (স্পেস) এই তথ্য সংগ্রহ করে। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনান সিডিপির খুলনা বিভাগীয় সমন্বয়কারী এস এম ইকবাল হোসেন বিপ্লব।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বটিয়াঘাটা উপজেলার জলমা ইউনিয়নের কচুবুনিয়া, দাউনিয়াফাঁদ, মাথাভাঙ্গা ও জলমা গ্রামের ৬৩১টি খানায় এবং কেসিসির ২৪ ও ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের অধীন সিমকীর বস্তি ও লবণচরা বস্তির ১৫৫টির সব খানাকে এই জরিপের আওতায় আনা হয়। জরিপে দেখা গেছে, শিক্ষার দিক দিয়ে গ্রামগুলো যথেষ্ট পিছিয়ে আছে। সাক্ষরতার হার গ্রাম থেকে শহরে ৩২ দশমিক ৯ শতাংশ বেশি।

বস্তির খানাগুলোর বিশদ বিশ্নেষণে দেখা যায়, জলমা ইউনিয়নের গ্রামগুলোতে প্রতিবছর নদীভাঙন, জলোচ্ছ্বাস, জলাবদ্ধতা, খরা এবং লবণাক্ততা দেখা যায়। গ্রামগুলোর ৩২ শতাংশ খানা ভূমিহীন, ১১ দশমিক ১ শতাংশ খানা এখনও নিয়মিত তিন বেলা খাবারের ব্যবস্থা করতে পারে না। ৩০ দশমিক ৪ শতাংশ খানার আয় পুরোপুরি অনিয়মিত। ১২ শতাংশ খানা এখনও বিদ্যুৎ সংযোগবিহীন। এসব খানা এখনও আলোর জন্য কেরোসিন তেল ব্যবহার করে। বস্তির তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, ৫ দশমিক ২ শতাংশ খানা এখনও নিয়মিত তিন বেলার খাবার জোটাতে পারে না। এ ছাড়া ৫৪ দশমিক ৮ শতাংশ খানায় প্রয়োজনীয় খাদ্য মজুত থাকে না।

সংবাদ সম্মেলনে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জলবায়ু ঝুঁকি কমাতে ৯ দফা দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে বিনা সুদে ও দীর্ঘমেয়াদি কিস্তিতে গৃহঋণের ব্যবস্থা করা, নিরাপদ ও সুপেয় পানি নিশ্চিত করতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া, ম্যানগ্রোভ ফরেস্টেশনের মাধ্যমে সবুজ বেষ্টনী গড়ে তোলা, লবণাক্ততা কমাতে উদ্ভাবনী কার্যক্রম গ্রহণ, শিক্ষা এবং কারিগরি শিক্ষার প্রসারে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ।

সংবাদ সম্মেলনে খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি শ্যামল সিংহ রায়, পরিবেশ সুরক্ষায় উপকূলীয় জোটের আহ্বায়ক এস এম শাহনওয়াজ আলী, খুলনা প্রেস ক্লাবের যুগ্ম সম্পাদক মাহবুবুর রহমান মুন্না প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।