ঢাকার কেরানীগঞ্জের বরিশুর এলাকায় প্রবাসী রেশমা আক্তারকে হত্যার ঘটনায় তার স্বামী নুরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-১০। 

এ ব্যাপারে জানাতে সোমবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। 

এতে র‌্যাব-১০ এর অধিনায়ক ডিআইজি মাহফুজুর রহমান জানান,রোববার রাজধানীর কাকরাইল এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়। র‌্যাব জানায়, কাতার প্রবাসী এক যুবকের সঙ্গে স্ত্রীর পরকীয়া রয়েছে সন্দেহ করে তিনি এই হত্যাকাণ্ড ঘটান।

 রেশমা আক্তারের সঙ্গে ১২ বছর আগে নুরুল ইসলামের বিয়ে হয়। তাদের ১০ বছর বয়সী একটি ছেলে আছে। পরে স্বামীর অনুমতি নিয়েই রেশমা জর্ডানে যান। সেখানে থাকা অবস্থায় স্বামীর সঙ্গে নানা বিষয়ে বিরোধের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে তিন মাসে আগে তাদের বিচ্ছেদ ঘটে। তবে ২৮ এপ্রিল রেশমা দেশে ফিরলে নুরুল আবারও সংসার করার জন্য কাকুতি-মিনতি শুরু করেন। শেষপর্যন্ত আত্মীয়দের চাপাচাপিতে গত ১৫ মে তারা আবারও সংসার শুরু করেন। 

এর দু'দিন পর ১৭ মে দুপুরে নুরুল তার শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে জানায়, রেশমাকে তার মেসে আটকে রেখে এসেছে। সেখানে গিয়ে রেশমার গলাকাটা রক্তাক্ত মরদেহ পান স্বজনরা। এ ঘটনায় নিহতের বোন বাদী হয়ে কেরানীগঞ্জ থানায় মামলা করেন।

র‌্যাব জানায়, নুরুল পেশায় বাবুর্চি। তার বোরকা তৈরির একটি কারখানাও ছিল। কিন্তু মাদকাসক্ত হয়ে সব খুইয়েছেন। পরকীয়া রয়েছে সন্দেহে পরিকল্পিতভাবে তিনি স্ত্রীকে মেসে ডেকে নিয়ে গলা কেটে হত্যা করেন। 

এরপর তিনি আত্মগোপনের জন্য বরিশাল, চাঁদপুর হয়ে শেষে চট্টগ্রামে যান। সেখানে দু'দিন থাকার পর আবারও ঢাকায় আসেন। এখান থেকে বরিশাল যাওয়ার সময় তাকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব।