শ্যামনগর উপজেলার পার্শেমারী গ্রামের রাঙামাটি পাড়ায় আশরাফুন্নেছা বেগম (৩৬) নামের এক গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। গর্ভের সন্তান নষ্ট করতে রাজি না হওয়ায় ও পারিবারিক কলহের জেরে সোমবার রাতে স্বামী সফিকুল ইসলাম তাকে পিটিয়ে হত্যা করে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্ত্রীর মরদেহ ফেলে পালিয়ে যাওয়ার সময় মঙ্গলবার ভোরে চাঁদনীমুখা এলাকা থেকে স্থানীয় জনতা তাকে ধরে গ্রাম পুলিশের কাছে সোপর্দ করে।

নিহত আশরাফুন্নেছা বেগম শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইউনিয়নের পার্শ্বেমারী গ্রামের মৃত আতিয়ার রহমানের ছোট মেয়ে।

নিহত গৃহবধূর ভাই মহিবুল্লাহ জানান, গত তিন বছর আগে ভগ্নিপতি সফিকুল ইসলাম নিজের চাচাতো বোন স্বামী পরিত্যক্তা ফুলমতি বিবিকে (২৬) বিয়ে করেন। বিয়ের পর থেকে দ্বিতীয় স্ত্রী তার পিত্রালয়ে অবস্থান করে প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার জন্য স্বামীকে চাপ দিতে থাকেন। সম্প্রতি আশরাফুন্নেছা আবারও সন্তান সম্ভবা হয়ে পড়ার ঘটনা জানাজানি হলে সাংসারিক অশান্তি বৃদ্ধি পায়। স্বামীর কথামতো গর্ভে থাকা চার মাসের সন্তান নষ্ট করতে রাজি না হওয়াতে সোমবার রাতে মারপিটের পর ভোরের দিকে আশরাফুন্নেছার মৃত্যু হয়।

নিহতের বড় ও মেজ ছেলে আনারুল ইসলাম ও মনিরুল ইসলাম জানায়, তাদের বাবা সফিকুল ইসলাম গত দুদিন ধরে তার মায়ের ওপর বেপরোয়া শাররীক নির্যাতন করছিলেন। সোমবার ভোরে প্রতিবেশীরা ডাকতে আসার পর বাবার ঘরের মধ্যে মৃত অবস্থায় তারা নিজেদের মাকে দেখতে পায়। এসময় বারান্দায় শুয়ে থাকা তার বাবা পালানোর চেষ্টা করলে স্থানীয়রা পাশের গ্রাম থেকে তাকে ধরে আনেন। এ ঘটনায় তাদের মামা রেজাউল ইসলাম বাদী হয়ে সফিকুল ও তার দ্বিতীয় স্ত্রীর বিরুদ্ধে মামলা করবেন।

শ্যামনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কাজী ওয়াহিদ মুর্শেদ জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে রওনা দিয়েছে। মরদেহ পোষ্টমর্টেমের পাশাপাশি নিহতের পরিবারের অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।