বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী (বীরপ্রতীক) বলেছেন, করোনার ২ বছর আমাদের গ্রোথ ছিল ২০ শতাংশ। অর্থাৎ তখনও আমরা ২০ শতাংশ পাটপণ্য রফতানি করেছি। তখন কিন্তু গার্মেন্টস একেবারে বন্ধ ছিল। এখন পুরোদমে কারখানায় কার্যক্রম চলছে। পাট থেকে সুতা, পাটখড়ি থেকে চারকোল উৎপাদন করে সেটা চীনে রফতানি করছি। পাটখাত এগিয়ে যাবে। পাকিস্তান আমলে পাট ছিল প্রধান আয়ের উৎস। স্বাধীনতার ৫০ বছর পর পাটখাতে আবার একটা জাগরণ তৈরি হয়েছে।

মঙ্গলবার চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় বেসরকারি খাতে বরাদ্দ দেওয়া কেএফডি জুট মিল পরিদর্শনের পর মতবিনিময় সভায় দেয়া বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য মো. নজরুল ইসলাম চৌধুরী, রাঙ্গুনিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান স্বজন কুমার তালুকদার, ইউনিটেপ গ্রুপের কর্মকর্তা সাকিব আহমেদ সিদ্দিকী মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখেন।

মন্ত্রী আরও বলেন, কৃষক যখন একেকটি পাটগাছ রোপণ করে, সেগুলো শুধু একেকটি পাটগাছ নয়, সেগুলো একেকটি ডলার। পাট এখন আমাদের অর্থনীতিতে সবচেয়ে বেশি ভ্যালু অ্যাডেড পণ্য। যত পাটপণ্য রফতানি হবে, তত মার্কিন ডলার দেশে আসবে। তবে শ্রমিকরা মালিকবান্ধব হলে এবং মালিকরা শ্রমিকবান্ধব হলে সেই কারখানাগুলো খুব ভালো চলে। শ্রমিককে ভালোবাসতে হবে।

আরও ১৫টি পাটকল বেসরকারি খাতে দেওয়া নিয়ে মন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী বলেন, টেন্ডার করেছি। আগামীকাল (বুধবার) জমা দেয়ার শেষ দিন। ১৮টি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ৫৩টি প্রস্তাবনা পাওয়া গেছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রস্তাবনা যাচাইবাছাই করে আমরা এই ১৫টি মিলও প্রাইভেটে দিয়ে দেব। প্রাইভেটে সেগুলো ভালো চলবে।

পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব আবদুর রউফ বলেন, বিজেএমসির অধীনে থাকা ২৫টি পাটকলের মধ্যে ১৭টি ইজারা দেওয়ার কার্যক্রম আমরা শুরু করেছিলাম। ইতোমধ্যে চট্টগ্রামে একটি এবং নরসিংদীতে একটি বেসরকারি খাতে ইজারা দিয়েছি। সরকারিভাবে কারখানা চালাতে গেলে আমাদের অনেক সমস্যা হয়। সরকারি সিদ্ধান্ত নিতে এক মাস সময় লাগে। কিন্তু প্রাইভেটে তো সেই সমস্যা নেই।