যশোর জেলায় কলেজ পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানপ্রধান নির্বাচিত হয়েছেন নওয়াপাড়া সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ রবিউল হাসান। জেলা শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠানপ্রধান বাছাই কমিটি গত রোববার এক সভায় এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। অভয়নগর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শহিদুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

রবিউল হাসান খুলনা জেলার ফুলতলা উপজেলার উত্তরডিহি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা মো. মোদাচ্ছের হোসেন একজন শিক্ষক। ৯ ভাই-বোনের মধ্যে রবিউল হাসান সপ্তম। উত্তরডিহি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে প্রাথমিক শেষ করে নওয়াপাড়া শংকরপাশা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে (বর্তমানে সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়) ভর্তি হন। ১৯৮৩ সালে প্রথম বিভাগে এসএসসি পাশ করে নওয়াপাড়া কলেজে (বর্তমানে সরকারি) ভর্তি হন। সেখান থেকে ১৯৮৫ সালে প্রথম বিভাগে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করেন। এরপর তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। সেখান থেকে ইতিহাস বিভাগে স্নাতক (সন্মান) এবং স্নাতকোত্তর পাশ করেন। এরপর তিনি নওয়াপাড়া মহিলা কলেজে শিক্ষকতা শুরু করেন। নওয়াপাড়া মহিলা কলেজে শিক্ষকতা করার সময় দুইবার তিনি উপজেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ কলেজ শিক্ষক নির্বাচিত হন। ২০১৫ সালে তিনি নওয়াপাড়া কলেজে অধ্যক্ষ হিসেবে যোগ দেন। নওয়াপাড়া কলেজে অধ্যক্ষ হিসেবে যোগদানের পর তিনি ২০১৬ সালে উপজেলা কলেজ পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানপ্রধান নির্বাচিত হন। অধ্যক্ষের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের পাশাপাশি তিনি আর্থসামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে অবদান রেখে চলেছেন। 

করোনার সময়ে অধ্যক্ষ রবিউল হাসান কোভিড রোগীদের সেবা পাওয়া নিশ্চত করতে ওষুধ ও অ্যাম্বুলেন্স ব্যবস্থাপনার জন্য সামাজিক উদ্যোগ গ্রহণ করেন। সে সময়ে নওয়াপাড়া কলেজের শিক্ষকরা তাকে সহযোগিতা করেন।

করোনার শুরুর দিকে মহামারি প্রতিরোধে কঠোর স্বাস্থ্যবিধি জারি হওয়ায় তখন নওয়াপাড়া পৌর এলাকার অসহায় ও ছিন্নমূল মানুষের জন্য অধ্যক্ষ রবিউল হাসানের নেতৃত্বে রান্না করা খাবার বিতরণ করা হয়। পরে চালু করেন অক্সিজেন ব্যাংক।

এ ছাড়া করোনাকালে উত্তরাঞ্চল থেকে ধান কাটতে আসা ৮৪ জন শ্রমজীবীকে কলেজে রেখে থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা করছিলেন অধ্যক্ষ রবিউল হাসান।

করোনাকালে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে আসা দেশের বিভিন্ন এলাকার ছাত্রছাত্রী ও অভিভাবকদের তিনি নওয়াপাড়া সরকারি কলেজে থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করে খুলনা যাওয়ার ব্যবস্থা করেন।

রবিউল হাসান বলেন, মানুষের উপকার করতে পারলে আমার আনন্দ হয়। তাই সব সময়ই আমার অসহায় মানুষের পাশে থাকতে ভালো লাগে। আমাকে যশোর জেলার শ্রেষ্ঠ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধান নির্বাচিত করায় আমি কর্তৃপক্ষের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।