ভাওয়াল জাতীয় উদ্যান এলাকায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে অভিনব কায়দায় ডাকাতির ঘটনা ঘটছে। রাত বাড়লে এই এলাকায় সরব হয়ে ওঠে ডাকাতচক্র। তারা ছুটে চলা গাড়িকে লক্ষ্য করে ঢিল ছোঁড়ে। এতে কেউ গাড়ি থামালে আড়াল থেকে বেড়িয়ে এসে চালায় হঠাৎ আক্রমণ। সর্বস্ব ছিনিয়ে জখম করতে বা প্রাণ কেড়ে নিতেও দ্বিধা করে না। 

গতকাল মঙ্গলবার দিবাগত রাত সোয়া দুইটায় এই মহাসড়কে অস্ত্রধারী ডাকাত দলের আক্রমণের শিকার হয়েছেন বিরিশিরি ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠীর কালচারাল একাডেমির পরিচালক ও গীতিকার সুজন হাজং, চলচ্চিত্র নির্মাতা সোহেল রানা বয়াতি এবং অভিনেতা বাপ্পী রাজ। 

সেই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিয়েছেন সুজন হাজং। আজ বুধবার সমকালকে তিনি বলেন, ‘সিনেমার লোকেশন দেখতে ঢাকা থেকে নেত্রকোনার বিরিশিরি যাচ্ছিলাম। আনুমানিক রাত সোয়া দুইটার দিকে গাজীপুর ন্যাশনাল পার্ক এলাকায় পৌঁছাই। হঠাৎ একটা রড এসে আমাদের এক্স করোলা গাড়িতে আঘাত করে। শব্দ শুনে ড্রাইভার কোনো পার্টস খুলে পড়েছে ভেবে গাড়ি থামান। তিনি নেমে পার্টস খুঁজছিলেন। আমি গাড়ি থেকে নেমে মহাসড়কের পাশে দাঁড়াই। হঠাৎ আড়াল থেকে ৪-৫ জন মানুষ এসে আক্রমণ করে। আমাকে রামদা দিয়ে আঘাত করতে গেলে আমি দৌড় দেই। এ সময় তারা আমাকে রামদা হাতে তাড়া করে। বাস-ট্রাক দ্রুত গতিতে ছুটে যাচ্ছিল। একজন বিপদে পড়া মানুষকে বাঁচাতে কেউই থামেনি।’ 

সুজন হাজং বলেন, ‘দৌড়াতে দৌড়াতে আমি জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-তে কল করি। এমন সময় সৌভাগ্যবশত সামনে টহল পুলিশের দেখা পাই। ছয়জন পুলিশ সদস্য এগিয়ে এসে ডাকাতদের ধাওয়া করেন। কিছুক্ষণের মধ্যে জরুরি সেবার তথ্য পেয়ে আরও পুলিশ সদস্য সাহায্য করতে এগিয়ে আসেন।’ 

পুলিশের টহল দলের মধ্যে ছিলেন গাজীপুর সদর থানার উপপরিদর্শক (এস আই) মনির হুসাইন। এ বিষয়ে জানতে তাকে ফোন করা হলে তিনি সমকালকে বলেন, ‘জায়গাটা নির্জন। প্রায় ৮ কিলোমিটার রাস্তার দুই পাশে জঙ্গল। এখানে কোনো বসতবাড়ি নেই। তাই ডাকাত চক্রের জন্য সুবিধাজনক স্থান। মাঝেমধ্যেই এখানে এ ধরনের ঘটনা ঘটে। ডাকাতদের ধাওয়া করলে তারা জঙ্গলের মধ্যে পালিয়ে যায়। 

তিনি বলেন, ‘এই এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। এ ঘটনায় ডাকাতদের ধরতে আমাদের চেষ্টা অব্যাহত আছে। প্রযুক্তিগত সহায়তা নেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে আমাদের সোর্সও কাজ শুরু করেছে।’ 

মনির হুসাইন জানান, ডাকাত দলের সদস্যরা ড্রাইভারকে কিল, ঘুসি, লাথি দিয়ে এবং রড দিয়ে পিটিয়ে জখম করেছে। ডাকাতের কবলে পড়াদের উদ্ধার করে নিরাপদে নেয় পুলিশ। 

সুজন হাজং জানান, ড্রাইভার মো. মনির হোসেনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তিনি শঙ্কামুক্ত। বর্তমানে সোহেল রানা বয়াতি ও বাপ্পী রাজের সঙ্গে বিরিশিরি ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠীর কালচারাল একাডেমিতে রয়েছেন। 

এদিকে, ডাকাতির সময় দুটি পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের স্ক্রিপ্ট হারিয়েছেন বলে জানান নির্মাতা সোহেল রানা বয়াতি। তিনি বলেন, ‘গত ছয় মাস এই স্ক্রিপ্ট নিয়ে কাজ করেছি। কোথাও কোনো সফট ফাইল নাই এই স্ক্রিপ্ট দুটির। খুব বড় ক্ষতি হয়ে গেল।’ 

প্রসঙ্গত, ঢাকা থেকে প্রায় চল্লিশ কিলোমিটার দূরে ভাওয়াল জাতীয় উদ্যানের অবস্থান। গাজীপুর জেলার সদর ও শ্রীপুর উপজেলায় এ উদ্যানের বিস্তৃত। জয়দেবপুর চৌরাস্তা ছাড়িয়ে ময়নসিংহের দিকে কিছু দূর যেতে হাতের ডানে উদ্যানের বেশ কয়েকটি প্রবেশপথ আছে। উদ্যানে এবং পাশের মহাসড়কে প্রায়ই ডাকাতি ও খুনের ঘটনার খবর পাওয়া যায়।