সিরাজগঞ্জের বিভিন্ন পয়েন্টে যমুনা নদীর পানি কমতে শুরু করেছে করেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ১৮ সেন্টি মিটার হ্রাস পেয়েছে। তবে পানি কমতে থাকায় ডানতীরে ঘূর্ণাবর্ত্যের পরিমাণ বেড়ে ভাঙনঝুঁকিতে রয়েছে কাজিপুর উপজেলার সিংগড়াবাড়ি থেকে সদরের বালিঘুগরি হয়ে পাঁচঠাকুরী পর্যন্ত বাঁধের ৮ কিলোমিটার এলাকা।

বুধবার সদর উপজেলার খোকশাবাড়ি, পাঁচিল ও পাঁচঠাকুরিসহ আশেপাশে সরেজমিনে গিয়ে পাউবোর ও স্থানীয়দের সাথে কথা বলে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।

পাঁচঠাকুড়ি শাহজাহানমোড়ের চা-দোকানী রিপন শেখ বলেন, বার বার ভাঙনে ঘরবাড়ি হারিয়ে পরিবার পরিজন নিয়ে বাঁধেই বাস করছি। গত বছর এখানে ব্যাপক ভাঙন শুরু হয়। এবারও পাঁচঠাকুরির উজানে সিংগাড়াবাড়ি-বালিঘুগরিতে ভাঙনঝুঁকি রয়েছে।

সিংগড়াবাড়ি-পাঁচঠাকুরি বাঁধের দায়িত্বপ্রাপ্ত পাউবোর উপ-সহকারী কর্মকর্তা মাসুদুর রহমান জানান, বালিঘুগরি-পাঁচঠাকুরীর পূর্বদিকে জেগে ওঠা চর পশ্চিমে সরে আসায় যমুনার গতিপথ পরিবর্তন হয়ে ডানতীরে আঘাত করছে। এতে বালিঘুগরি পয়েন্টে যমুনার স্রোত সরাসরি ধাক্কা খেয়ে ঘূর্ণাবর্ত্যের সৃষ্টি করেছে। এ অবস্থা বাঁধের পাশে তীর রক্ষা বাঁধের নিচেও।

পাঁচঠাকুরি থেকে পাঁচিল থেকে খোকশাবাড়ি অংশের দায়িত্বপ্রাপ্ত পাউবোর উপ-সহকারী কর্মকর্তা জাকির হোসেন জানান, আগে থেকে ব্যবস্থা নেয়ায় এখনও ভাঙন শুরু হয়নি। তারপরেও যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবেলায় জিব্যাগে বালি ভরে রাখা হয়েছে।

সিরাজগঞ্জে পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম বলেন, সিরাজগঞ্জ অংশে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের দৈর্ঘ্য ৮০ কিলোমিটার। বন্যায় যমুনার পানি বিপৎসীমার উওরে উঠলে বাঁধের তলদেশে ঘূর্ণাবর্ত বাড়ে। পানি চুয়ানোর পরিমাণও বেড়ে যায়। এতে বাঁধের ভাঙনের ঝুঁকিও বেড়ে যায়।