নাটোরের সিংড়ায় পানাগাড়ি বিলে জলাবদ্ধতার কারণে প্রায় ৪০০ বিঘা জমিতে ধান চাষ ব্যাহত হচ্ছে। স্থানীয় দুই ব্যক্তি খালের কিছু অংশ বন্ধ করে পুকুর খনন করায় পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ হয়ে গেছে। এতে দুই ফসলি এ জমিগুলো অনাবাদি হয়ে পড়ার আশঙ্কা কৃষকদের।

চলনবিল অধ্যুষিত মহেশচন্দ্রপুর এলাকার পানাগাড়ি বিলের পৈতৃক সম্পত্তিতে দু'বছর আগে পুকুর খনন করেন আব্দুস সোবাহান। এ বছর তার নিকটাত্মীয় সাহাদতও নতুন করে পুকুর খনন করেছেন। খাল বন্ধ করে পুকুর করায় পানি নিষ্কাশন পথ বন্ধ হয়ে গেছে। বৃষ্টিতে জমে থাকা পানি বের হতে না পেরে জমিতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।

জানা গেছে, এলাকার কৃষকরা পানাগাড়ি বিলে বোরো ধান কাটার পর রোপা আমন আবাদ করে থাকেন। কিন্তু জলাবদ্ধতার কারণে এবার তাঁরা কোনো ধরনের ফসল আবাদ করতে পারেননি।

কৃষক শাজাহান জানান, পানাগাড়ি বিলে ৮ বিঘা জমিতে দুটি ফসল আবাদ করেন। বিলের মধ্যে আব্দুস সোবাহান পুকুর খনন করায় গত দুই মৌসুম বোরা আবাদ করতে পারলেও আমন চাষ করতে পারেননি। এবার সাহাদত হোসেন পুকুর করায় খালটি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। পানি বের হতে না পেরে গোটা বিল জলাবদ্ধতার কবলে।

কৃষক আব্দুর রহমান বলেন, 'জমিই আমার সম্বল। পানি জমে থাকায় গত কয়েক মৌসুম আমন আবাদ করতে পারিনি। আরেকটি পুকুর করায় এবার খালটি সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। আগামী বোরো মৌসুমে এ বিলে কোনো ধরনের ফসলই আবাদ করা যাবে না।'

১০ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সভাপতি ওয়াদুদ মণ্ডল বলেন, তিন-চার গ্রামের মানুষের মধ্যে কেউ দুই ফসল, কেউবা তিনটি করে ফসল আবাদ করেন বিলের জমিতে। পানি নিষ্কাশন না হওয়ায় এখন সেখানে ফসল আবাদ করা যাচ্ছে না। পুকুর মালিকদের বলেও কাজ হচ্ছে না। বিষয়টি ইউএনওকে জানানোর পর এসিল্যান্ড এসে ভেকু মেশিনের ব্যাটারি খুলে নিয়ে গেছেন।

দুই পুকুর মালিক আব্দুস সোবাহান ও সাহাদত হোসেন বলেন, পানি যাওয়ার মতো জায়গা রেখেই তাঁরা পৈতৃক জমিতে পুকুর খনন করেছেন। কাজ করার সময় খালে যে মাটি পড়েছে, সেগুলো ভেকু দিয়ে তুলে ফেলা হবে। প্রয়োজনে পানি নিস্কাশনের জন্য তাঁরা কিছুটা জায়গা ছেড়ে দেবেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এমএম সামিরুল ইসলাম বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর পুকুর খনন বন্ধ করা হয়েছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পানি নিস্কাশনেরও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।