সিলেট নগরীর কিছু এলাকা থেকে পানি নামার পর নতুন দুর্ভোগ দেখা দিয়েছে। রাস্তায় ময়লা-আবর্জনা পড়ে থাকায় দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। বিশেষ করে সেপটিক ট্যাঙ্কের ময়লার দুর্গন্ধে শহরবাসীর নাভিশ্বাস উঠেছে। দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানির সংকট। এ কারণে নগরীতে ডায়রিয়ায় আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। এদিকে সুনামগঞ্জ পৌরসভা থেকে পানি নেমে গেলেও কাঁচা ঘরবাড়ির বাসিন্দাদের দুর্ভোগ বেড়েছে। পচা দুর্গন্ধযুক্ত পানিতে দুর্ভোগে পড়েছে মানুষ। এ পানিতে গোসল করলে শরীর চুলকায়; অ্যালার্জির মতো গোটা বের হয়। ঘরে ঘরে জ্বর ও ডায়রিয়া দেখা দিচ্ছে। পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে শিশুসহ নানা বয়সী মানুষ।

সিলেটে বন্যার পানি নামার সঙ্গে সঙ্গে দেখা দিয়েছে ডায়রিয়ার প্রকোপ। দুই সপ্তাহ আগে বন্যা শুরুর পর নগরীর বিভিন্ন এলাকায় বাসাবাড়িতে পানি প্রবেশ করে। অনেক ঘরের ভেতর হাঁটু ও কোমরপানি উঠে যায়। বিশেষ করে নগরীর বাসাবাড়ির সেপটিক ট্যাঙ্ক বন্যার পানিতে তলিয়ে একাকার হয়ে পড়ে। বাসাবাড়ি, সড়ক হয়ে ওঠে দুর্গন্ধময়।

সরেজমিন দেখা যায়, সিলেট নগরীর কিছু এলাকার বাসাবাড়ি থেকে পানি নামলেও নিম্নাঞ্চলে এখনও সমস্যা রয়ে গেছে। দুর্গন্ধের কারণে নগরীর কিছু এলাকায় বাসিন্দাদের নাকে রুমাল দিয়ে চলাফেরা করতে হচ্ছে। জীবন-জীবিকার তাগিদে ময়লা পানি মাড়িয়ে অনেকে বাসাবাড়ি থেকে বের হচ্ছে। ময়লা ও নোংরা পানির দুর্গন্ধে পানিবাহিত সংক্রামক রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে।

সিলেট সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বন্যা শুরুর পর থেকে গতকাল বুধবার পর্যন্ত সিলেটে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছে ৪৩১ জন। এর মধ্যে কেবল বুধবারই বিভিন্ন উপজেলায় ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৫২ জন। আক্রান্তদের মধ্যে বেশিরভাগ সিলেট সিটি করপোরেশন এলাকার।

সিভিল সার্জন ডা. এসএম শাহরিয়ার সমকালকে বলেন, পানিবাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে ইতোমধ্যে ১৪০টি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে। এসব টিমের সদস্যরা বিভিন্ন উপজেলায় বন্যার্তদের সেবায় কাজ করছেন।

সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. বিশ্বনাথ পাল বলেন, এই মুহূর্তে শিশু ও ছাত্রছাত্রীদের এসব পানি থেকে দূরে রাখার চেষ্টা করতে হবে। দুটি বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। প্রথমত, কষ্ট করে হলেও বিশুদ্ধ পানি পান করতে হবে। দ্বিতীয়ত, ময়লা ও নোংরা পানি মাড়িয়ে গেলে দ্রুত সাবান দিয়ে পরিস্কার করতে হবে।