কুষ্টিয়ায় যুবদলের নেতাকর্মীদের ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা মারধর করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। অপর দিকে বিএনপির অভিযোগ, তাদের মাঠেই নামতে দেওয়া হয়নি। ফলে দলটি কেন্দ্রঘোষিত কোনো বিক্ষোভ ও সমাবেশ করেনি। 

বৃহস্পতিবার কুষ্টিয়ায় সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত বন্ধ ছিল জেলা বিএনপি কার্যালয়। দুপুরের পর দুই থেকে তিনজন নেতাকর্মী কার্যালয়ে প্রবেশ করে। তাদের মধ্যে ছিলেন জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য সৈয়দ মেহেদী আহম্মেদ রুমী।

তাদের অভিযোগ, বিকেলে কার্যালয়ের সামনে একটি গলির ভেতর যুবদলের কয়েকজন নেতাকর্মীকে বেধড়ক পিটিয়েছে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এতে পূর্ব নির্ধারিত বিক্ষোভ ও সমাবেশ হয়নি।

সৈয়দ মেহেদী আহম্মেদ রুমীর অভিযোগ, কুষ্টিয়া শহরের প্রবেশ মুখের সাতটি পয়েন্টে পুলিশের দল রাখা হয়েছিল। যাতে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা কার্যালয়ে না আসতে পারে। এ ছাড়া যুবদলের কর্মীদের ওপর হামলা চালিয়ে মারধর করা হয়েছে। পুরো শহরে দুপুর থেকে ত্রাসের রাজত্ব চলেছে।

বিএনপি দলীয় নেতাকর্মী ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানায়, বিকেল চারটার দিকে এনএস রোডে বিএনপির কার্যালয়ের সামনে থানা পাড়া সড়কে যুবদলের কয়েকজন নেতাকর্মী অবস্থান নিয়ে ছিলেন। এমন খবর পেয়ে সেখানে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা লাঠি নিয়ে হামলা চালায়। সেখানে তিন থেকে চারজনকে বেধড়ক পেটায়। স্থানীয়রা তাদের মধ্যে তিনজনকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে।

আহতরা হলেন— খোকসা পৌরসভার কমলাপুর এলাকার নাজমুল ইসলাম (৩৫), একই উপজেলার ওসমানপুর গ্রামের রিপন আলী (৩৫) ও দেবিনগর এলাকার রাকিবুল ইসলাম (৪৩)। তাদের মাথায় ও পিঠে জখম রয়েছে।

খবর পেয়ে সেখানে কুষ্টিয়া মডেল থানা পুলিশ যায়। পরে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা বঙ্গবন্ধু মার্কেটে জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের দিকে চলে যায়।

অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আতিকুর রহমান অনিক বলেন, পদ্মাসেতুর উদ্বোধনের তারিখ ঘোষণা করায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানিয়ে শহরে আনন্দ শোভাযাত্রা বের করা হয়। থানাপাড়া গলির কাছে পৌঁছালে যুবদলের কয়েকজন নেতাকর্মী বাজে টোন করে। এ সময় শোভাযাত্রার পেছন থেকে হয়তো কিছু হয়েছে। শুনেছি ধাওয়া হয়েছে। এর পর বেশি কিছু হয়নি।

তিনি আরও জানান, এর পর তিনি দলীয় কার্যালয়ের দিকে চলে যান। কেউ আহত হওয়ার বিষয়ে তিনি অবগত নন।

বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে জেলা বিএনপির কার্যালয়ের সামনে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে অন্তত ২০ জন পুলিশ সদস্য কার্যালয়ের সামনে চেয়ারে বসে আছেন। ভেতর থেকে কার্যালয়ে তালা লাগানো। ভেতরে জেলা বিএনপি সভাপতি সৈয়দ মেহেদী আহম্মেদ বসে আছেন।

কার্যালয়ের সামনের ছবি তুলতে গেলে পুলিশ বাধা দেয়। একপর্যায়ে সাংবাদিকদের পুলিশ সদস্যরা বাধা দিয়ে জানান, ছবি ও ভিডিও ধারণ করার ক্ষেত্রে নিষেধ আছে। কোনো ছবি তোলা যাবে না। এমনকি ভিডিও করাও যাবে না। সব ছবি ও ভিডিও মুছে ফেলার জন্য সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হন কয়েকজন পুলিশ সদস্য।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাব্বিরুল আলম বলেন, থানাপাড়া গলিতে সামান্য একটু হাতাহাতি হয়েছে। একজন হাতপাতালে গেছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। আমি বিষয়টি দেখছি। ছবি ও ভিডিও ধারণে কোনো নিষেধ নেই।

এ ব্যাপারে জানতে পুলিশ সুপার খাইরুল আলমের মোবাইল ফোনে কল করা হলে তা রিসিভ হয়নি।