বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলী বলেছেন, বিমানবন্দরে স্বর্ণচোরাচালানের সঙ্গে বিমানের কেউ না কেউ জড়িত। এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। 

বৃহস্পতিবার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট ক্যাটারিং সেন্টার (বিএফসিসি) পরিদর্শন শেষে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।

এর আগে বুধবার বিমানবন্দরে ৮ কেজি ওজনের ৭০টি স্বর্ণবারসহ আবদুল আজিজ আকন্দ নামে বিমানের বিএফসিসির এক কর্মীকে আটক করে ঢাকা কাস্টম। তার বিরুদ্ধে বিমানবন্দর থানায় একটি মামলা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। 

এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বিমানের ক্যাটারিং সেন্টার সরজমিন পরিদর্শনে আসেন বিমান প্রতিমন্ত্রী।

ঢাকা কাস্টমের ডেপুটি কমিশনার মো. সানোয়ারুল কবির সমকালকে জানান, বুধবার গোপন সংবাদ ছিল বিমানের ক্যাটারিং সেন্টারে কর্মরত অসাধু এক শ্রেণির কর্মীর মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণের চালান পাচার হবে। এদিন দুপুরের দিকে দুবাই থেকে ঢাকায় ছেড়ে আসা বিমানের একটি ফ্লাইটে স্বর্ণ চোরাকারবারিরা বিপুল পরিমাণ স্বর্ণের চালান নিয়ে আসে। বিমানের ক্যাটারিং সেন্টারের কর্মীর মাধ্যমে তা পাচার হবে। 

কাস্টমের এ কর্মকর্তা আরও জানান, এসময় স্বর্ণ উদ্ধারে ক্যাটারিং সেন্টারে অভিযান চালানো প্রস্তুতি নেওয়া হয়। কিন্তু কাস্টম কর্মকর্তাদের বাধা দেওয়া হয়। এ অবস্থায় প্রায় ৮ ঘণ্টা ঘীরে রাখা হয় বিমানের ক্যাটারিং সেন্টার। পরে বিমানবন্দর গোয়েন্দা সংস্থা এনএসআইসহ বিভিন্ন সংস্থার কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় অভিযান চালিয়ে কর্মী আবদুল আজিজ আকন্দকে আটক করা হয়। এসময় তল্লাশি চালিয়ে দেহের বিভিন্ন স্থান থেকে জব্দ করা হয় ৭০টি স্বর্ণবার। যার বাজার মূল্য প্রায় সাড়ে ৬ কোটি টাকা। 

অভিযোগ উঠেছে, স্বর্ণপাচারে সক্রিয় বিমানের ৫০ সদস্যের একটি সিন্ডিকেট। এ সিন্ডিকেটের সদস্যদের ম্যানেজ করে কোটি কোটি টাকার অবৈধ স্বর্ণবারের চালান পার করে আন্তর্জাতিক স্বর্ণচোরাকারবারিরা।

পুলিশ জানায়, স্বর্ণপাচারের অভিযোগে গ্রেপ্তার আবদুল আজিজ আকন্দকে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।