চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক প্রশাসক খোরশেদ আলম সুজনের বিরুদ্ধে ১৩টি দুর্নীতির অভিযোগ তদন্ত করে দেখতে কমিটি গঠন করেছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। 

মন্ত্রণালয়ের উপ সচিব মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে বলা হয়েছে, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক প্রশাসক তার ১৮০ দিনের দায়িত্ব পালনকালে নানা ক্ষেত্রে দুর্নীতি করেছেন বলে দুর্নীতি দমন কমিশন জানিয়েছ। এসব অভিযোগ তদন্ত করে কমিটি মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন দাখিল করবে।

কমিটির আহবায়ক স্থানীয় সরকার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (নগর উন্নয়ন) মুস্তাকিম বিল্লাহ ফারুকী। তার সঙ্গে রয়েছেন সদস্য যুগ্ম সচিব (পলিসি সাপোর্ট অধিশাখা) ও সদস্য সচিব উপ সচিব (সিটি করপোরেশন-২ শাখা) মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম। 

খোরশেদ আলম সুজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি দায়িত্ব পালনকালে সিটি করপোরেশনের নিজস্ব পাম্প থেকে তেল না কিনে বন্ধুর পাম্প থেকে তেল কিনেছেন। 

শুধু তাই নয়, তেল চুরির দায়ের বরখাস্ত ব্যক্তিকে পুনরায় নিয়োগ দিয়েছেন। জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন করে এক প্রকৌশলীকে পদোন্নতি দিয়েছেন। 

এরপর সিটি করপোরেশনের টাকায় কেনা আসবাবপত্র নিজের বাসায় নিয়ে গিয়েছেন। স্বজনপ্রীতি করে এক কর্মকর্তাকে প্রধান হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন। অবৈধভাবে চার জনকে বিভিন্ন পদে নিয়োগ, অবসরে চলে যাওয়া এক কর্মকর্তাকে পুনরায় নিয়োগ, সিটি করপোরেশনের জায়গা ও দোকান নিজ স্ত্রী এবং বন্ধুদের লিজ দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

২০২০ সালের ৬ আগস্ট ১৮০ দিনের জন্য চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পান নগর আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি খোরশেদ আলম সুজন। 

২০২১ সালের ১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তিনি দায়িত্ব পালন করেন। এ সময় বিভিন্ন ব্যতিক্রমধর্মী কার্যক্রমে  প্রশংসিত হয়েছিলেন তিনি। একই বছরের ২৭ জানুয়ারি নির্বাচনে মেয়র নির্বাচিত হন নগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক রেজাউল করিম চৌধুরী।

অভিযোগ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক প্রশাসক খোরশেদ আলম সুজন বলেন, ‘তদন্ত কমিটি করার বিষয় আমি জানি না। করে থাকলে আমি খুশি। তাহলে আমি আদৌ কোন দুর্নীতি করেছি কিনা তা প্রমাণিত হবে। বাস্তবে দায়িত্ব পালনকালে আমি কোন অনিয়ম ও দুর্নীতি করিনি, প্রশ্রয়ও দিইনি। আমার কাজের জন্য নগরবাসী আমাকে সাধুবাদ জানিয়েছিলেন। আমার কাজে ঈর্ষান্বিত হয়ে কেউ হয়তো বেনামে উড়ো চিঠির মাধ্যমে এসব অভিযোগ করেছেন।’