রংপুরে এক গৃহবধূকে ধর্ষণের অভিযোগে মাজেদুল ইসলাম বসুনিয়া নামে সাবেক এক ছাত্রলীগ নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত বুধবার রাতে  র‌্যাব ও পুলিশ যৌথভাবে অভিযান চালিয়ে রংপুর নগরীর কেরামতিয়া মসজিদ এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে।

ওই গৃহবধূর গোসলের ভিডিও গোপনে ধারণ করেন বসুনিয়া। এর পর তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে একাধিকবার গৃহবধূকে ধর্ষণ করেন।

অভিযুক্ত বসুনিয়া জেলার কাউনিয়া উপজেলার হারাগাছ ইউনিয়ের মৃত মহির উদ্দিন বসুনিয়ার ছেলে। হারাগাছ ইউনিয়ন ছাত্রলীগের শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক ছিলেন তিনি।

পুলিশ ও এলাকাবাসী জানান, তিন বছর আগে হারাগাছ ইউনিয়নে ওই গৃহবধূর দুই সন্তানকে প্রাইভেট পড়াতেন কলেজছাত্র বসুনিয়া। বাড়িতে প্রাইভেট পড়ানোর সুযোগে একদিন গোপনে ওই গৃহবধূর গোসলের ভিডিও করেন তিনি। এর পর সেই ছবি ও ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে গৃহবধূকে একাধিকবার ধর্ষণ করেন। একপর্যায়ে গত বছর ওই নারী নিরূপায় হয়ে ছেলেদের নিয়ে ঢাকায় চলে যান। ঢাকায় থাকা অবস্থায়ও তাকে শারীরিক সম্পর্কের কথা বলেন বসুনিয়া। গৃহবধূ রাজি না হওয়ায় অন্য নামে একটি ফেসবুক আইডি থেকে গত ১২ মার্চ গৃহবধূর ছোট ছেলের মেসেঞ্জারে আপত্তিকর ছবি পাঠান তিনি। একই দিন গৃহবধূর বড় ছেলের বন্ধুর মেসেঞ্জারেও আপত্তিকর ছবি পাঠান বসুনিয়া। অবশেষে গৃহবধূ ঢাকা থেকে গ্রামের বাড়িতে এসে ১১ এপ্রিল কাউনিয়া থানায় মামলা করেন।

কাউনিয়া থানার ওসি মাসুমুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং পর্নোগ্রাফি আইনে দুটি মামলা হয়। মামলার পর গা-ঢাকা দেন বসুনিয়া। গ্রেপ্তারের পর বৃহস্পতিবার তাকে আদালতে হাজির করা হলে বিচারক কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।