ছাত্রলীগ ও পুলিশের সঙ্গে দফায় দফায় সংঘর্ষের পর এবার নতুন সংকটে পড়েছে খুলনা মহানগর ও জেলা বিএনপি। সংঘর্ষের ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাতেই ৯২ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরও ৭০০-৮০০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে পুলিশ। এতে খুলনা বিএনপির সবচেয়ে প্রভাবশালী নেতা হিসেবে পরিচিত রকিবুল ইসলাম বকুলসহ নগর ও জেলা বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের শীর্ষস্থানীয় সব নেতাকে আসামি করা হয়েছে। গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে নগর বিএনপির সদস্য সচিব শফিকুল আলম তুহিনসহ ৪১ জনকে।

বিএনপি নেতাকর্মীরা জানিয়েছেন, এর আগে বিভিন্ন সময় বিএনপির সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়েছে; কিন্তু বৃহস্পতিবার পুলিশের আক্রমণাত্মক ভূমিকায় বিস্মিত তারা। বিএনপি কার্যালয়ের দরজা ভেঙে নেতাদের লাঠিপেটা ও গ্রেপ্তারের ঘটনা আগে ঘটেনি। অসংখ্য মামলা হলেও শীর্ষস্থানীয় সব নেতাকে একসঙ্গে আসামি করার ঘটনাও ছিল না। মহানগর ও জেলা বিএনপির নতুন কমিটির সবাই তারেক রহমানের ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত রকিবুল ইসলাম বকুলের অনুসারী। বকুলের বিরুদ্ধে আগে খুলনায় কোনো মামলা হয়নি। বৃহস্পতিবারের মামলায় তাকেও আসামি করা হয়েছে। এসব নিয়ে চাপে রয়েছে দল।

জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আমীর এজাজ খান বলেন, মামলা নিয়ে মোটেও চিন্তিত নই। তবে পুলিশের আগ্রাসী ভূমিকা আমাদের বিস্মিত করেছে। সংঘর্ষে বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর প্রায় ২০০ রাউন্ড গুলি ও টিয়ার গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করেছে পুলিশ। গুলিতে অসংখ্য কর্মী আহত হয়েছেন। উল্টো আমাদের বিরুদ্ধেই মামলা করেছে। রাজপথে ও আইনিভাবে এসব মোকাবিলা করা হবে।

গত বৃহস্পতিবার বিকেলে বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশ ও ছাত্রলীগের প্রায় ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষ হয়। এতে উভয় পক্ষের প্রায় ৫০ জন আহত হন। আটক করা হয় ৪১ জনকে। সংঘর্ষের ঘটনায় রাতেই খুলনা সদর থানার এসআই বিশ্বজিৎ কুমার বসু বাদী হয়ে মামলাটি করেন। মামলায় মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক শফিকুল আলম মনা, সদস্য সচিব শফিকুল আলম তুহিন, ১ নম্বর সদস্য রকিবুল ইসলাম বকুল, যুগ্ম আহ্বায়ক তরিকুল ইসলাম জহির, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আমির এজাজ খান, সদস্য সচিব মনিরুল হাসান বাপ্পী, নগর যুবদল সভাপতি মাহাবুব হাসান পিয়ারু, সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হুদা চৌধুরী সাগর, জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক ইবাদুল হক রুবায়েত, জেলা ছাত্রদল সভাপতি আবদুল মান্নান মিগ্রী ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা তুহিন, নগর ছাত্রদলের আহ্বায়ক ইসতিয়াক আহম্মেদ, সদস্য সচিব তাজিম বিশ্বাস, স্বেচ্ছাসেবক দল সভাপতি একরামুল হক হেলালসহ ৯২ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

বিএনপির সংবাদ সম্মেলন :বৃহস্পতিবারের ঘটনার প্রতিবাদে শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টায় নগরীর কে ডি ঘোষ রোডে দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে খুলনা বিএনপি। এতে মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক শফিকুল আলম মনা অভিযোগ করেন, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীরা পুলিশের সহযোগিতায় হামলা চালিয়ে তাদের সমাবেশ পণ্ড করে দেয়। মঞ্চ ও চেয়ার ভাঙচুর করা হয়। পুলিশ বেধড়ক লাঠিচার্জ, শটগানের গুলি ও টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে। এতে বিএনপির শতাধিক নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। হামলার সময় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের হাতে লাঠি ও দেশীয় অস্ত্র ছিল। পুলিশ ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি, উল্টো বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধেই মামলা করেছে। তবে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি পারভেজ হাওলাদার দাবি করেন, তাঁরা হামলা করেননি, বরং বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের হামলায় ছাত্রলীগের শতাধিক নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।

খুলনা থানার ওসি হাসান আল মামুন বলেন, বিএনপি নেতাকর্মীরা ছাত্রলীগ ও পুলিশের ওপর হামলা চালায়। হামলায় ১৪ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

১২ নারীকর্মীর জামিন :পুলিশের মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে বিএনপির ৪১ নেতাকর্মীকে গতকাল শুক্রবার মহানগর হাকিম আদালতে পাঠানো হয়। পরে মহানগর হাকিম আল আমিন ১২ নারীকর্মীর জামিন মঞ্জুর করেন। মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব শফিকুল আলম তুহিনসহ ২৯ জনের জামিন শুনানির জন্য আগামী রোববার দিন ধার্য করেছেন বিচারক। তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।