‘বরিশাল তথা দক্ষিণ উপকূলের নদ-নদীগুলো অসহায় হয়ে পড়েছে। অব্যাহতভাবে দখল হচ্ছে নদীর তীর। দখলের কারণে অনেক নদনদী ভরাট হয়ে যাচ্ছে। নাব্যতা হারাচ্ছে। দখলের পাশাপাশি ব্যাপকভাবে দূষণের শিকার হচ্ছে নদী। দূষণে নদীর পানি ও নদীনির্ভর প্রাণ বৈচিত্র্য নষ্ট হচ্ছে। নদী রক্ষা করতে না পারলে আমাদের কৃষি, অর্থনীতি, পরিবেশ ও প্রকৃতি বিপদগ্রস্ত হবে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ বাড়বে। দখল, দূষণ, অবৈধ বালু উত্তোলন, বিষ দিয়ে নদীর মাছ নিধনসহ নানা কারণে নদী যেমন বিপন্ন তেমনি নদীকেন্দ্রিক জীবনধারার সঙ্গে জড়িত মানুষরাও বিপদগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। তাই নদী রক্ষায় সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে।’ 

শনিবার পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটায় বাংলাদেশ নদীবন্ধু সমাজ আয়োজিত নদী বিষয়ক এক সেমিনারে বক্তারা এ কথা বলেন। ‘নদীর কথা শুনি, নদীর কথা বলি’- প্রতিপাদ্যকে তুলে ধরে কুয়াকাটায় দুই দিনব্যাপী নদী সম্মেলনের শেষ দিন ছিল শনিবার। শুক্রবার কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত পরিচ্ছন্ন অভিযানের মাধ্যমে নদীবন্ধু সমাজের দুই দিনব্যাপী সম্মেলন শুরু হয়। শনিবার স্থানীয় একটি হোটেল মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয় নদী বিষয়ক সেমিনার।

সেমিনারে বক্তারা বলেন, নদীর প্রতি সচেতন না হলে আমাদের উপকূলীয় প্রাণ-প্রকৃতি হারিয়ে যাবে। কৃষি ও পরিবেশ ব্যবস্থাপনা হুমকির মুখে পড়বে। নদীতে বিষ দিয়ে মাছ ধরাসহ নদীর ওপর সব ধরনের আগ্রাসন বন্ধ করতে সরকারি সব প্রতিষ্ঠানকে ভূমিকা রাখতে হবে। অন্যথায় দিন দিন নদীর জীবন্ত সত্তা বিপন্ন হবে।

নদীবন্ধু সমাজের সভাপতি প্রাণকৃষ্ণ বিশ্বাসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত নদী বিষয়ক সেমিনারে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যাথলজি ও প্যারাসাইটোলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক খন্দকার জাহাঙ্গীর আলম। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন নদীবন্ধু সমাজের সহ সভাপতি সাংবাদিক দেবদাস মজুমদার, অধ্যক্ষ মো. আলমগীর হোসেন খান, হাঙ্গার প্রজেক্টের বরিশাল বিভাগীয় সমন্বয়ক সাংবাদিক ফারুক হোসেন খান, কুয়াকাটা টুরিস্ট পুলিশের পরিদর্শক হাসনাইন পারভেজ, কুয়াকাটা প্রেস ক্লাবের সভাপতি মো. নাসির উদ্দিন বিপ্লব প্রমুখ।

অধ্যাপক খন্দকার জাহাঙ্গীর আলম বলেন, নদীকে সরকারিভাবে জীবন্তসত্তা ঘোষণা করা হলেও আমরা নদীর প্রতি উদাসীন। অথচ নদী আমাদের জীবনধারার সঙ্গে মিশে আছে। তাই নদী রক্ষায় সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। যারা অসচেতন তাদের সচেতন করতে হবে। নদীর গতিপথ ও নাব্যতা ধরে রাখতে সরকারি সংস্থাগুলোকে যথা সময়ে উদ্যোগ নিতে হবে।

নদীবন্ধু সমাজের উদ্যোক্তা ও সহ সভাপতি সাংবাদিক দেবদাস মজুমদার বলেন, দক্ষিণ উপকূলের নদীগুলো দখল-দূষণে বিপন্ন। এমন কোনো নদী নেই যার তীর দখল হয়নি। নদীগুলো ভয়াবহ দূষণের কবলে। কিন্তু দখল-দূষণের কবল থেকে নদী-খাল রক্ষায় সরকারি সংস্থাগুলো খুবই উদাসীন। দেবদাস মজুমদার প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে রক্ষা পেতে নদী-খালগুলো দখল-দষণের কবল থেকে মুক্ত করতে সরকারি সংস্থাগুলোর প্রতি দাবি জানিয়েছেন।

শুক্রবার দুপুরে নদীবন্ধু সমাজের দুই দিনব্যাপী সম্মেলনের উদ্বোধন করেন চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নাসিম আক্তার। উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি বলেন, নদী-খাল আমাদের জীবনধারার অংশ। নদী না বাঁচলে সভ্যতা বিপন্ন হবে। তাই জীবন-জীবিকা ও প্রাণ প্রকৃতির জন্য নদীকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে। নদীর গুরুত্ব তুলে ধরতে হবে সাধারণ মানুষের মধ্যে।

শুক্রবার দুপুরে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর নদীবন্ধু সমাজের সদস্যরা কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন অভিযান চালান। এ সময় সৈকত সংলগ্ন ব্যবসায়ীদের কুয়াকাটা সৈকত পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য সচেতন করা হয়।