দীর্ঘ সময় পর সম্মেলন আয়োজনের মাধ্যমে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা যুবলীগের নেতাকর্মীর এক ধরনের সম্মিলন হলেও অর্থপূর্ণ হয়নি। ঢাকঢোল পিটিয়ে এই সম্মেলনের আয়োজন করা হলেও তা ছিল অনেকটাই আনুষ্ঠানিকতা মাত্র। সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন নেতৃত্ব নির্ধারণ করার কথা। কিন্তু তা হয়নি। কমিটি ঘোষণা করা হলে যাঁরা বঞ্চিত হবেন তাঁদের সামাল দেওয়া যাবে না- মূলত এমন আশঙ্কায় সম্মেলনে জেলা যুবলীগের কমিটি ঘোষণার ঝুঁকি নেননি যুবলীগের কেন্দ্রীয় নেতারা। ফলে জেলা যুবলীগের নেতৃত্বে কারা আসছেন তা নিয়ে সাধারণ নেতাকর্মীর মধ্যে যে কৌতূহল ছিল, তা জিইয়ে রেখেছে যুবলীগের হাইকমান্ড। একই সঙ্গে কমিটি ঘোষণা না করে উৎকণ্ঠায় রেখে দিলেন পদপ্রত্যাশী যুবলীগ নেতাকর্মীদেরও। আজ রোববার চট্টগ্রাম উত্তর জেলা এবং আগামীকাল সোমবার চট্টগ্রাম মহানগর যুবলীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। এই দুটি সাংগঠনিক জেলায়ও সম্মেলনে কমিটি ঘোষণার সম্ভাবনা খুব কম। কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, চট্টগ্রামে সম্মেলন হলেও ঢাকা থেকে কমিটি হবে!

গতকাল শনিবার চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার পটিয়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা যুবলীগের সম্মেলনের প্রথম পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। সকাল সাড়ে ১১টার দিকে সম্মেলনের উদ্বোধন করেন যুবলীগ চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ। মধ্যাহ্ন বিরতির পর বিকেল সাড়ে ৫টায় পটিয়ার 'হল টু ডে' নামে একটি কমিউনিটি সেন্টারে সম্মেলনের দ্বিতীয় পর্ব অনুষ্ঠিত হয়।

শেখ ফজলে শামস পরশের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন নিখিলের সঞ্চালনায় সম্মেলনের দ্বিতীয় পর্যায়ের কার্যক্রম চলে। এতে আড়াইশ কাউন্সিলর উপস্থিত ছিলেন। শুরুতে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের পদপ্রত্যাশীরা নিজেদের পরিচয় দেন এবং তাদের প্রস্তাবক ও সমর্থকরা দাঁড়িয়ে সমর্থনের বিষয়টি ব্যক্ত করেন। এরপর যুবলীগ চেয়ারম্যান পরশ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে নিজেদের মধ্যে সমঝোতার জন্য সময় দেন। কিন্তু সমঝোতা না হওয়ায় যাচাই-বাছাই করে কেন্দ্র থেকে কমিটি ঘোষণা করা হবে বলে সম্মেলনে জানিয়েছেন তিনি।

চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা যুবলীগের সর্বশেষ কমিটি হয়েছিল ২০১০ সালে। যুবলীগ নেতা আ ম ম টিপু সুলতান চৌধুরীকে সভাপতি ও পার্থ সারথী চৌধুরীকে সাধারণ সম্পাদক করে পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়েছিল। তবে সেই কমিটি কেন্দ্র থেকে ঘোষণা করা হয়েছিল। এর দীর্ঘ প্রায় একযুগ পর জেলা যুবলীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হলো। এবার দক্ষিণে সভাপতি পদের জন্য ১৩ জন এবং সাধারণ সম্পাদক পদের জন্য ৩৯ জন জীবনবৃত্তান্ত জমা দিয়েছেন। তবে সর্বশেষ সম্মেলনে সভাপতি ৮ জন এবং সাধারণ সম্পাদক পদে ২২ জনের নাম প্রস্তাব ও সমর্থন করা হয়।

সম্মেলন ঘিরে উচ্ছ্বাস-উদ্দীপনা দেখা গেছে। সম্মেলনে দক্ষিণ চট্টগ্রামের সাতটি উপজেলা থেকে বাস-ট্রাক ও হিউম্যান হলারে করে কয়েক হাজার নেতাকর্মী অংশ নেন। মূলত নেতৃত্বে আসতে ইচ্ছুক যুবলীগ নেতারাই তাদের সম্মেলনে নিয়ে আসেন। সম্মেলনস্থলে ছিল সাজ সাজ রব। চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের শাহ আমানত সেতু থেকে পটিয়া পর্যন্ত কিছুদূর পরপর দেখা গেছে শত শত ব্যানার-পোস্টার। তবে এসব আয়োজনের খরচ হয়েছে কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা।

এদিকে সম্মেলনের কারণে সাধারণ মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে পটিয়া সদরে পটিয়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে। কিন্তু পটিয়া স্কুলের পটিয়া সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেওয়ায় যাত্রীদের নিদারুণ বিড়ম্বনা পোহাতে হয়। সড়কের পটিয়া বাইপাস ইন্দ্রপোল ও বাইপাসের আরেকপাশ গিরিচৌধুরী বাজার থেকে পটিয়া সদরমুখী সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। সম্মেলনকে ঘিরে সড়কে সেভাবে কোনো যানবাহনের চাপ না থাকার পরও দু'দিকে দুই কিলোমিটার দূর থেকে যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেওয়ায় যাত্রীদের হেঁটে গন্তব্যে পৌঁছাতে হয়।

'বাংলাদেশ তালেবান রাষ্ট্র কিংবা শ্রীলঙ্কা হবে না':এর আগে সম্মেলনে যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ বলেন, একটি পক্ষ বাংলাদেশকে তালেবান রাষ্ট্র বানাতে চান, আবার কোনো পক্ষ শ্রীলঙ্কা বানাতে চান। কিন্তু বাংলাদেশ কখনও তালেবান রাষ্ট্র কিংবা শ্রীলঙ্কা হবে না। তিনি আরও বলেন, আওয়ামী যুবলীগ নিজের জন্য নয়, সমাজের কল্যাণে রাজনীতি করে। করোনার সময় যুবলীগ মানবতার নিদর্শন দেখিয়েছে। ভবিষ্যতে যুবলীগের নেতাকর্মীদের এভাবে মানুষের পাশে থাকতে হবে। প্রতিযোগিতা দিয়ে ভালো কাজ করতে হবে। যুবলীগ চেয়ারম্যান বলেন, শুধু আইন করে দুর্নীতি রোধ করা যাবে না। যদি না আমরা সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে পারি। জনগণের সম্পৃক্ততা ছাড়া শুধু আইন করে কোনো রাজনৈতিক সরকারের পক্ষে দুর্নীতি বন্ধ করা অবশ্যই কঠিন কাজ।

দক্ষিণ জেলা যুবলীগ সভাপতি আ ম ম টিপু সুলতান চৌধুরী সম্মেলনে সভাপতিত্ব ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক পার্থ সারথী চৌধুরী সঞ্চালনা করেন।