রাস্তা নির্মাণ শেষ হওয়ার কথা আগামী ৩০ জুনের মধ্যে, অথচ এখনও কাজই শুরু হয়নি। কবে নাগাদ শুরু হতে পারে, তাও নিশ্চিত করে বলতে পারছে না কর্তৃপক্ষ। ফলে সহসাই অবসান হচ্ছে না দুর্ভোগের। এ অবস্থা বগুড়ায় ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প সংস্থার (বিসিক) তত্ত্বাবধানে গড়ে ওঠা শিল্পনগরীর। এখানকার শিল্প উদ্যোক্তারা বলছেন, প্রতিবছর রাস্তা, ড্রেনেজ এবং লাইটিং ব্যবস্থার জন্য কোটি টাকার ওপরে সার্ভিস চার্জ দিচ্ছেন তাঁরা; তবে মিলছে না সেবা। এ নিয়ে ক্ষোভ জানিয়েছেন তাঁরা।

বগুড়া শহরের ফুলবাড়িতে অবস্থান বিসিক শিল্পনগরীর। শিল্পনগরীর প্রধান সড়কসহ ভেতরের রাস্তাগুলোতে বর্ষা মৌসুমে পানি জমে, আর শুস্ক মৌসুমে ওড়ে ধুলাবালি। এতে করে যানবাহন ও মানুষের চলাচলে পোহাতে হয় চরম দুর্ভোগ। এ অবস্থা চলছে প্রায় দেড় যুগ ধরে; কিন্তু রাস্তা নির্মাণের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ।

বিসিক শিল্প মালিক সমিতির সভাপতি আজিজার রহমান মিল্টন বলেন, দুর্ভোগের অবসানের জন্য শিল্প মালিক সমিতির পক্ষ থেকে বিসিক কর্তৃপক্ষের কাছে একাধিকবার আবেদন জানানোর পর রাস্তা ও ড্রেন নির্মাণের জন্য তারা একটি প্রকল্প নিয়েছে বলে জেনেছি। কিন্তু রাস্তার কাজ করতে দেখা যাচ্ছে না।

বিসিক কর্তৃপক্ষ জানায়, রাস্তা ও ড্রেন নির্মাণের জন্য ৬ কোটি ৬১ লাখ টাকা ব্যয় নির্ধারণ করে নেওয়া প্রকল্পটি ২০১৮ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদে (একনেক) অনুমোদন পায়। এর মধ্যে ১১ হাজার ৩৮৩ বর্গমিটার রাস্তার জন্য ৩ কোটি ৫৯ লাখ টাকা ও ড্রেনের জন্য ৩ কোটি ২ লাখ টাকা। একনেকে প্রকল্পটি অনুমোদনের পর রাস্তা ও ড্রেন নির্মাণের জন্য ২০১৮ সালের নভেম্বরে দরপত্র আহ্বান করা হয়। মেসার্স আরাফাত এন্টারপ্রাইজ এবং এম এ ইঞ্জিনিয়ারিং নামে দুটি প্রতিষ্ঠান যৌথভাবে প্রতিযোগিতার মাধ্যমে কাজটি পায়। তাদের ২০২২ সালের ৩০ জুনের মধ্যে কাজ শেষ করতে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। প্রতিষ্ঠান দুটি ড্রেন নির্মাণকাজ আগে শুরু করে, চলতি মাসের মধ্যে প্রায় ৯০ শতাংশ কাজ শেষও হয়েছে। তবে রাস্তার কাজ তারা শুরুই করেনি।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দাবি, ড্রেন নির্মাণের টাকার মধ্যে এখন পর্যন্ত চার ভাগের তিন ভাগ টাকাও পাওয়া যায়নি, কবে পাওয়া যাবে তারও কোনো নিশ্চয়তা নেই। এরই মধ্যে বেড়েছে নির্মাণসামগ্রীর দাম। তাই আগের বাজেট অনুযায়ী রাস্তা নির্মাণ করা সম্ভব হচ্ছে না। এজন্যই কাজ শুরু করা হয়নি বলে জানান ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি ইকবাল হোসেন।

বিসিকের ব্যবসায়ী আকবরিয়া গ্রুপের চেয়ারম্যান হাসান আলী আলাল বলেন, প্রতিবছর রাস্তা, ড্রেন ও লাইটিং ব্যবস্থাসহ সার্ভিস চার্জ বাবদ প্লটপ্রতি লাখ টাকার ওপরে বিসিককে দিতে হয়। এ ছাড়া বিপুল পরিমাণ টাকা ভ্যাট-ট্যাক্স হিসেবে দেন এখানকার শিল্প মালিকরা। অথচ তাঁদের কোনো সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হয় না। এমনকি চলাচলের রাস্তাটি পর্যন্ত নির্মাণ করা হচ্ছে না।

জানা গেছে, বগুড়া বিসিক শিল্পনগরীতে ২৩২টি প্লট রয়েছে। চালু রয়েছে ৯৩টি শিল্প কারখানা। এ থেকে প্রতিবছর বিসিক কর্তৃপক্ষ সার্ভিস চার্জ বাবদ নেয় ১ কোটি ৫ লাখ টাকা। শিল্প কারখানার আয় থেকে প্রতি বছর ভ্যাট ও ট্যাক্স বাবদ সরকার পায় ১৬৩ কোটি টাকা।

শিল্পনগীর রাস্তা-ড্রেনেজ প্রকল্পের উপপরিচালক শাহিনুর রহমান বলেন, প্রকল্পটি যে সময় নেওয়া হয় তখন নির্মাণসামগ্রীর দাম কম ছিল। এখন দাম বেড়ে যাওয়ায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আগের দরে কাজ করতে অনীহা প্রকাশ করছে। প্রকল্পের ব্যয় সংশোধন করে অর্থ বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। কবে নাগাদ অর্থ মিলবে- এ বিষয়ে তিনি সঠিক করে বলতে পারছেন না।

বগুড়া বিসিকের ভারপ্রাপ্ত উপমহাব্যবস্থাপক একেএম মাহফুজুর রহমান বলেন, শিল্প কারখানার মালিকদের সব সময় যথাসাধ্য সহায়তা দেওয়া হয়ে থাকে। যে সমস্য রয়েছে তা সমাধানের চেষ্টা চলছে। তিনি আরও জানান, চারতলা প্রশাসনিক ভবন নির্মাণের কাজের জন্যও কিছুদিনের মধ্যে দরপত্র আহ্বান করা হবে।

রাস্তা, ড্রেন ও প্রশাসনিক ভবন নির্মাণ প্রকল্পের পরিচালক এবং বিসিক প্রধান কার্যালয়ের সম্প্রসারণ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক সারোয়ার হোসেন বলেন, ড্রেনের জন্য অর্থ বরাদ্দ পাওয়া গেছে। এই টাকা ঠিকাদারকে দিয়ে রাস্তা নির্মাণের কাজ করার জন্য বলা হবে। পরে রাস্তার জন্য টাকা বরাদ্দ পেলে ঠিকাদারের বিল পরিশোধ করা হবে।