বরিশালের উজিরপুরে একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছের সঙ্গে ধাক্কা লেগে এক শিশুসহ ১১ জন যাত্রী নিহত হয়েছেন। রোববার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কের উজিরপুরের বামরাইল এলাকায় এ দুর্ঘটনায় আরও ২০ যাত্রী আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

উজিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলী আরশাদ সমকালকে এসব তথ্য জানিয়েছেন।

ওসি আলী আর্শাদ বলেন, বাসটি ঢাকা থেকে যাত্রী নিয়ে ভান্ডারিয়ার উদ্দেশে যা‌চ্ছিল। পথে বরিশালের উজিরপুর উপজেলার বামরাইল পৌঁছালে বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছের সঙ্গে ধাক্কা লাগে। এতে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ঘটনাস্থলেই এগারো জন নিহত হওয়ার পাশাপাশি আরও ২০ যাত্রী আহত হন। নিহতদের মধ্যে একটি শিশুও রয়েছে। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। আহতদের উদ্ধার করে বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং উজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়েছে।

বরিশাল ফায়ার সার্ভিসের ইউনিট লিডার মো. জাহাঙ্গীর বলেন, ‘দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের গৌরনদী ও উজিরপুরের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এ ঘটনায় বেশকিছু হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। বাসটি গাছের মধ্যে ঢুকে গেছে। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা বাস কেটে যাত্রীদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠাচ্ছেন। হতাহতের সংখ্যা উদ্ধার অভিযান শেষ করে বলা যাবে।’

এদিকে বাস দুর্ঘটনায় নিহত ১১ জনের মধ্যে সাত জনের পরিচয় জানা গেছে। তারা হলেন- ঝালকাঠি সদর উপজেলার নৈকাঠী গ্রামের আরাফাত হোসেন (৯), পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার নুরুল ইসলাম আকন (৩৫), একই উপজেলার রাকিব আকনের স্ত্রী আনোয়ারা বেগম (৩২), বরগুনার বেতাগী উপজেলার কাদিরাবাদ গ্রামের হালিম মিয়া (৩১), ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার আওলাদ মোল্লার ছেলে সান্টু মোল্লা (৫০), বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার সুন্দরকাঠী গ্রামের মো. রমজান (৩৮) ও উজিরপুর উপজেলার মুন্ডপাশা গ্রামেবিধান শীল (৩০)। এদের মধ্যে বিধান শীল এই দুর্ঘটনায় আহত হয়ে বরিশাল শের ই বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় (শেবাচিম) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। বাকিরা ঘটনাস্থলেই মারা যান।