অসুস্থ তিন সন্তানকে বাঁচাতে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন পাবনার সাঁথিয়ার দরিদ্র কৃষক আবদুল কাদের-নাজমা খাতুন দম্পতি। এর মধ্যে করোনার সময় জন্ম নেওয়া হাইড্রোক্যাফালাস রোগে আক্রান্ত শিশু জান্নাতুল ফেরদাউসের অবস্থা গুরুতর। সন্তানদের বাঁচাতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ সবার সহায়তা চেয়েছেন তাঁরা।

মা নাজমা খাতুন বলছিলেন- 'আমার সন্তানদের খাওয়ার জন্য প্রতিদিন তিন লিটার দুধের প্রয়োজন। তারা সবাই অসুস্থ। কিন্তু আমি গত এক সপ্তাহ ধরে তাদের দুধ খাওয়ানো বন্ধ করে দিয়েছি। এক বেলা খাবার জোটে না দুধ কিনব ক্যামনে।'

সাঁথিয়ার গৌরী গ্রামের এই দম্পতির তিন সন্তানের মধ্যে প্রথম সন্তান নাবিল (১০) জন্মগতভাবে শারীরিক প্রতিবন্ধী। মেজো ছেলে আব্দুল্লাহ (৬) দীর্ঘদিন ধরে পুষ্টিহীনতাসহ নানা রোগে ভুগছে। আর ছোট মেয়ে জান্নাতুল ফেরদাউস জন্ম থেকেই নানা রোগে আক্রান্ত। সাধারণ মাথার চেয়ে তার মাথার আকৃতি বেশ কয়েক গুণ বড়। ২০২০ সালে জন্ম নেয় শিশুটি।

টাকার অভাবে শারীরিক প্রতিবন্ধী বড় দুই সন্তানকে উন্নত চিকিৎসা করাতে পারছেন না বাবা-মা। ছোট সন্তান জান্নাতুলের মাথার আকৃতি দিন দিন বড় হয়ে যাচ্ছে। তার বয়স দুই বছর হলেও এখনও হাঁটাচলা করতে পারে না। আবদুল কাদের তাঁর শেষ সম্বল এরই মধ্যে বিক্রি করেছেন। তিন সন্তানের চিকিৎসার খরচ বহনের মতো ক্ষমতা তাঁর নেই।

বড় ছেলে নাবিলকে নিয়মিত ওষুধ সেবনের পরামর্শ দিয়েছিলেন সিআরপির চিকিৎসকরা। কিন্তু টাকার অভাবে ওষুধ কিনতেও পারছেন না আবদুল কাদের। এছাড়া মেজো ছেলে আব্দুল্লাকে পুষ্টিকর খাবার খেতে বলেছেন চিকিসকরা।

পাবনার বিশিষ্ট শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ দিলরুবা খাতুন বলেন, পাবনায় এর তেমন ভালো চিকিৎসা নেই। ঢাকায় নিয়ে বঙ্গবন্ধু বা শিশু হাসপাতালে এর চিকিৎসা করাতে হবে। সঠিক ও দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা পেলে জান্নাতুলের এই রোগ নিরাময় সম্ভব। এর চিকিৎসায় প্রায় তিন লাখ টাকা লাগবে।

পাবনা নাগরিক সমাজের সভাপতি আবদুল মতীন খান বলেন, প্রধানমন্ত্রীসহ সব বিত্তবানের এই পরিবারের সহায়তায় এগিয়ে আসা উচিত।

জান্নাতুলের বাবা আবদুল কাদের ও মা নাজমা খাতুন তাঁদের সন্তানদের সুচিকিৎসার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসার জন্য আকুল আবেদন জানিয়েছেন। আবদুল কাদেরের বিকাশ নম্বর- ০১৭৭৬-৩৮২৭৯৯।